এফসি বার্সেলোনা শুধুমাত্র একটি ফুটবল ক্লাব নয়, এটি ফুটবল জগতের এক অনন্য ইতিহাস। ১৮৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কাতালান জায়ান্ট দলটি বিশ্বের সবচেয়ে সফল এবং জনপ্রিয় ক্লাবগুলোর মধ্যে অন্যতম। ক্লাবের সমৃদ্ধ ইতিহাসে অসংখ্য কিংবদন্তি খেলোয়াড় ক্যাম্প নাউয়ের পবিত্র মাঠে তাদের জাদু প্রদর্শন করেছেন। আজ আমরা জানবো বার্সেলোনার সর্বকালের সেরা গোলদাতাদের সম্পর্কে, যারা তাদের গোলের মাধ্যমে ক্লাবের ইতিহাসকে স্বর্ণাক্ষরে লিখে গেছেন।
- পরিসংখ্যান ছক: বার্সেলোনার সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকা
- লিওনেল মেসি – অতুলনীয় রেকর্ডধারী
- সেসার রদ্রিগেজ – বার্সেলোনারঐতিহাসিক কিংবদন্তি
- লুইস সুয়ারেজ – প্রাণঘাতী স্ট্রাইকার
- লাসলো কুবালা – হাঙ্গেরিয়ান কিংবদন্তি
- সামুয়েল এতো – আফ্রিকার গর্ব
- রিভালদো – ব্রাজিলিয়ান মাস্টার
- অন্যান্য কিংবদন্তি গোলদাতা
- মারিয়ানো মার্তিন এবং হ্রিস্তো স্টয়চকভ
- ক্লাবের গোল রেকর্ড এবং মাইলফলক
পরিসংখ্যান ছক: বার্সেলোনার সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকা
বার্সেলোনার ইতিহাসের সর্বকালের সেরা গোলদাতা হলেন লিওনেল মেসি, যিনি ২০০৪-২০২১ সাল পর্যন্ত ক্লাবের হয়ে ৭৭৮টি ম্যাচে রেকর্ড ৬৭২টি গোল করেছেন। তাঁর এই অভাবনীয় পরিসংখ্যানের পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন সিজার রদ্রিগেজ (২৩২ গোল) এবং তৃতীয় স্থানে লুইস সুয়ারেজ (১৯৮ গোল)।
| খেলোয়াড়ের নাম | জাতীয়তা | মোট গোল | মোট ম্যাচ | সময়কাল |
| লিওনেল মেসি | আর্জেন্টিনা | ৬৭২ | ৭৭৮ | ২০০৪-২০২১ |
| সেসার রদ্রিগেজ | স্পেন | ২৩২ | ৩৫১ | ১৯৪২-১৯৫৫ |
| লুইস সুয়ারেজ | উরুগুয়ে | ১৯৮ | ২৮৩ | ২০১৪-২০২০ |
| লাসলো কুবালা | হাঙ্গেরি | ১৯৪ | ২৮১ | ১৯৫০-১৯৬১ |
| জোসেপ সামিতিয়ের | স্পেন | ১৮৪ | ৩৬০ | ১৯১৯-১৯৩২ |
| জোসেপ এসকোলা | স্পেন | ১৬৭ | ২৩৬ | ১৯৩৪-১৯৪৯ |
| পাউলিনো আলক্যান্তারা | ফিলিপাইন্স | ১৫৮ | ৩৯৯ | ১৯১২-১৯২৭ |
| সামুয়েল এতো | ক্যামেরুন | ১৩০ | ১৯৯ | ২০০৪-২০০৯ |
| রিভালদো | ব্রাজিল | ১৩০ | ২৩৫ | ১৯৯৭-২০০২ |
| মারিয়ানো মার্টিন | স্পেন | ১২৮ | ২১৪ | ১৯৪০-১৯৪৮ |
লিওনেল মেসি – অতুলনীয় রেকর্ডধারী
লিওনেল মেসি এবং এফসি বার্সেলোনার সম্পর্ক ফুটবল ইতিহাসের এক স্বর্ণালী অধ্যায়। ২০০৪ সালে অভিষেকের পর থেকে ২০২১ সালে বিদায় নেওয়ার আগ পর্যন্ত, এই আর্জেন্টাইন খুদে জাদুকর ন্যু ক্যাম্পকে বানিয়েছিলেন তার সাফল্যের চারণভূমি। তার অবিশ্বাস্য ড্রিবলিং, নিখুঁত ফিনিশিং এবং মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বার্সেলোনাকে এনে দিয়েছে অভাবনীয় সব সাফল্য। ক্লাবের প্রতি তার আনুগত্য এবং ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স তাকে ফুটবল বিশ্বের এক অনন্য উচ্চতায় বসিয়েছে। নিচে তার বার্সেলোনা ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যানগুলো তুলে ধরা হলো:
বার্সেলোনায় লিওনেল মেসির ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান
| বিষয় | পরিসংখ্যান / রেকর্ড |
| মোট ম্যাচ | ৭৭৮ (ক্লাব রেকর্ড) |
| মোট গোল | ৬৭২ (ক্লাব রেকর্ড) |
| অ্যাসিস্ট | ৩০৩ |
| মোট ট্রফি | ৩৫টি |
| লা লিগা শিরোপা | ১০টি |
| উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ | ৪টি |
| কোপা দেল রে | ৭টি |
| এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল | ৫০টি (লা লিগা, ২০১১-১২) |
সেসার রদ্রিগেজ – বার্সেলোনারঐতিহাসিক কিংবদন্তি
সেসার রদ্রিগেজ আলভারেজ বার্সেলোনার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা, যিনি ৩৫১টি খেলায় ২৩২ গোল করেছেন। ১৯৩৯ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত তার সময়কালে, তিনি ক্লাবের জন্য অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন। স্পেনিশ এই ফরোয়ার্ড ৫টি লা লিগা শিরোপা জিতেছিলেন এবং তার গোল রেকর্ড ৫৭ বছর ধরে অক্ষত ছিল, যতক্ষণ না মেসি ২০১২ সালে তা অতিক্রম করেন। সেসারের নাম বার্সেলোনার ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করা আছে।
| বিষয় | পরিসংখ্যান / তথ্য |
| অফিসিয়াল ম্যাচ | ৩৫১টি |
| মোট গোল | ২৩২টি |
| প্রধান ট্রফি | ১৩টি (মোট) |
| লা লিগা শিরোপা | ৫টি |
| কোপা দেল রে | ৩টি (তৎকালীন কোপা দেল জেনারেলাইজাদ) |
| আন্তর্জাতিক সাফল্য | ১৯৫০ বিশ্বকাপে স্পেনের প্রতিনিধিত্ব |
| বিশেষত্ব | কর্নার কিক থেকে গোল করার অসাধারণ ক্ষমতা |
লুইস সুয়ারেজ – প্রাণঘাতী স্ট্রাইকার
উরুগুয়ের লুইস সুয়ারেজ তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন ২৮৩টি ম্যাচে ১৯৮ গোল নিয়ে। ২০১৪ সালে লিভারপুল থেকে আসার পর, তিনি দ্রুত ক্যাম্প নাউয়ের প্রিয়পাত্র হয়ে উঠেছিলেন। মেসি এবং নেইমারের সাথে তিনি তৈরি করেছিলেন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী আক্রমণভাগ ‘MSN’। ২০১৫-১৬ মৌসুমে এই ত্রয়ী মিলে ১৩১ গোল করে স্প্যানিশ ফুটবলের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিল। সুয়ারেজ বার্সেলোনার সাথে ১টি ট্রেবল, ৪টি লা লিগা এবং ৪টি কোপা দেল রে জিতেছেন।
| বিষয় | পরিসংখ্যান / অর্জন |
| মোট ম্যাচ | ২৮৩টি |
| মোট গোল | ১৯৮টি (ক্লাবের ৩য় সর্বোচ্চ) |
| অ্যাসিস্ট | ১১৩টি |
| মোট ট্রফি | ১৩টি (১টি ট্রেবলসহ) |
| পিচিচি ও গোল্ডেন বুট | ২০১৬ সালে (লা লিগায় ৪০ গোল) |
| বিখ্যাত আক্রমণভাগ | MSN (মেসি, সুয়ারেজ, নেইমার) |
| বিশেষত্ব | অসাধারণ পজিশনিং ও ভলি গোল করার ক্ষমতা |
লাসলো কুবালা – হাঙ্গেরিয়ান কিংবদন্তি
হাঙ্গেরিয়ান ফরোয়ার্ড লাসলো কুবালা চতুর্থ স্থানে রয়েছেন প্রায় ১৯৪ গোল নিয়ে। ১৯৫০ সালে উদ্বাস্তু হিসেবে বার্সেলোনায় আসা কুবালা ১১ বছরের ক্যারিয়ারে ক্লাবের জন্য ১৪টি ট্রফি জিতেছেন। ১৯৫০-এর দশকে তিনি স্পোর্টিং হিহোনের বিরুদ্ধে একটি ম্যাচে ৭ গোল করার লা লিগা রেকর্ড গড়েছিলেন, যা আজও অটুট। তার বহুমুখী খেলার ধরন এবং সৃজনশীলতা তাকে বার্সেলোনার ইতিহাসে অমর করে রেখেছে।
| বিষয় | তথ্য / পরিসংখ্যান |
| মোট ম্যাচ | ৩৪৫টি |
| মোট গোল | ২৮০টি (সব ধরনের ম্যাচসহ) |
| অসাধারণ রেকর্ড | লা লিগার এক ম্যাচে ৭ গোল করার কীর্তি |
| আন্তর্জাতিক অনন্যতা | ৩টি ভিন্ন দেশের জাতীয় দলে খেলা (হাঙ্গেরি, চেকোস্লোভাকিয়া ও স্পেন) |
| মাঠের প্রভাব | তার জন্যই ঐতিহাসিক ‘ক্যাম্প ন্যু’ স্টেডিয়াম নির্মিত হয় |
| বিশেষ দক্ষতা | ফ্রি-কিক বিশেষজ্ঞ ও অসাধারণ ড্রিবলিং ক্ষমতা |
| সম্মাননা | ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামের সামনে তাঁর ব্রোঞ্জ মূর্তি স্থাপিত |
সামুয়েল এতো – আফ্রিকার গর্ব
ক্যামেরুনিয়ান স্ট্রাইকার সামুয়েল এতো পঞ্চম অবস্থানে রয়েছেন ১৯৯টি ম্যাচে ১৩০ গোল নিয়ে। ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি বার্সেলোনার আক্রমণভাগের প্রধান ছিলেন। এতো ৩টি লা লিগা এবং ২টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন, উভয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালেই গোল করার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। তার গতি, শক্তি এবং ক্লিনিক্যাল ফিনিশিং তাকে বার্সেলোনার ইতিহাসে অন্যতম সেরা আফ্রিকান খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে।
| বিষয় | পরিসংখ্যান / অর্জন |
| মোট ম্যাচ | ১৯৯টি |
| মোট গোল | ১৩০টি |
| বিখ্যাত অর্জন | ২০০৬ ও ২০০৯ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল গোলদাতা |
| ঐতিহাসিক সাফল্য | ২০০৮-০৯ মৌসুমে প্রথম ‘ট্রেবল’ জয় |
| ব্যক্তিগত রেকর্ড | ৪ বার আফ্রিকান বর্ষসেরা ফুটবলার |
| বিশেষ বৈশিষ্ট্য | বার্সার ইতিহাসে অন্যতম দ্রুততম হ্যাটট্রিক (২৩ মিনিট) |
| প্রধান শিরোপা | ৩টি লা লিগা, ২টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ২টি স্প্যানিশ সুপার কাপ |
রিভালদো – ব্রাজিলিয়ান মাস্টার
ব্রাজিলিয়ান আক্রমণভাগের খেলোয়াড় রিভালদো ১৩০ গোল নিয়ে এতোর সাথে যুগ্মভাবে পঞ্চম স্থানে রয়েছেন। ১৯৯৭ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত তিনি বার্সেলোনার জন্য খেলেছেন এবং ১৯৯৯ সালে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। ভ্যালেন্সিয়ার বিরুদ্ধে ২০০১ সালে তার অসাধারণ ওভারহেড কিক গোলটি আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত হয়। তার দূর পাল্লার শট এবং ফ্রি-কিক দক্ষতা তাকে অনন্য করে তুলেছিল।
| বিষয় | পরিসংখ্যান / অর্জন |
| মোট ম্যাচ | ২৫৩টি |
| মোট গোল | ১৩০টি |
| প্রধান শিরোপা | ২লি লা লিগা, ১টি কোপা দেল রে, ১টি উয়েফা সুপার কাপ |
| ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব | ১৯৯৯ ব্যালন ডি’অর ও ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড় |
| স্মরণীয় মুহূর্ত | ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক ও অবিশ্বাস্য ওভারহেড কিক |
| খেলার ধরন | নিখুঁত বাঁ পা, অসাধারণ ফ্রি-কিক ও দূরপাল্লার শট |
অন্যান্য কিংবদন্তি গোলদাতা
বার্সেলোনার শীর্ষ দশ গোলদাতার তালিকায় আরও রয়েছেন জোসেপ সামিতিয়ের (১৮৭ গোল), যাকে ‘দ্য গ্রাসহপার’ বলা হতো তার বক্স-টু-বক্স খেলার জন্য। ১৯২০-এর দশকে তিনি মিডফিল্ডার হয়েও অসাধারণ গোল রেকর্ড গড়েছিলেন। জোসেপ এসকোলা (১৫৮ গোল) ১৯৩০ এবং ১৯৪০-এর দশকে ক্লাবের মূল স্ট্রাইকার ছিলেন। পাউলিনো আলক্যান্তারা (১৩৮ গোল) বার্সেলোনার প্রথম সুপারস্টার হিসেবে বিবেচিত হন এবং তিনি একাধারে সৈনিক এবং ফুটবলার ছিলেন।
আধুনিক যুগে নেইমার (১০৫ গোল) ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত MSN ত্রয়ীর অংশ হিসেবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। পেদ্রো রদ্রিগেজ (৯৯ গোল) ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পেপ গার্দিওলার ‘টিকি-টাকা’ দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। রোনালদিনহো (৯৪ গোল) ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ক্যাম্প নাউয়ে জাদু দেখিয়েছেন এবং মেসির মেন্টর হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে রবার্ট লেভানডোভস্কি দ্রুত এই তালিকায় উপরে উঠছেন এবং ইতিমধ্যে রোনালদিনহোকে অতিক্রম করেছেন, প্রথম দুই মৌসুমে ৫৯ গোল করে।
মারিয়ানো মার্তিন এবং হ্রিস্তো স্টয়চকভ
মারিয়ানো মার্তিন (১২৯ গোল) ১৯৩৯ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত মাত্র ১৫০ ম্যাচে দুর্দান্ত গোল রেকর্ড গড়েছিলেন, যা প্রতি ম্যাচে প্রায় ০.৮৬ গোলের হার। বুলগেরিয়ান কিংবদন্তি হ্রিস্তো স্টয়চকভ (১১৭ গোল) ১৯৯০-এর দশকে বার্সেলোনার ‘ড্রিম টিম’-এর অংশ ছিলেন এবং ১৯৯৪ সালে ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন। প্যাট্রিক ক্লুইভার্ট (১২২ গোল) ডাচ স্ট্রাইকার হিসেবে ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
আরও পড়ুন: মেসির মোট ব্যালন ডি অর কয়টা জানেন কি??
ক্লাবের গোল রেকর্ড এবং মাইলফলক
বার্সেলোনার ইতিহাসে একটি ম্যাচে সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ডটি ধরে আছেন ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা জোয়ান গাম্পার, যিনি ১৯০১ থেকে ১৯০৩ সালের মধ্যে তিনবার একটি ম্যাচে ৯ গোল করেছিলেন। লা লিগায় একটি ম্যাচে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি ধরে আছেন লাসলো কুবালা – স্পোর্টিং হিহোনের বিরুদ্ধে ১৯৫১-৫২ মৌসুমে ৭ গোল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে একটি ম্যাচে সর্বোচ্চ ৫ গোল করেছেন মেসি, বায়ার লেভারকুজেনের বিরুদ্ধে ২০১১-১২ মৌসুমে। দ্রুততম হ্যাট্রিক সম্পন্ন করেছেন পেদ্রো – মাত্র ৯ মিনিটে গেটাফের বিরুদ্ধে ২০১৩-১৪ মৌসুমে।



