পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দল ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে একটি শক্তিশালী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ইউরোপিয়ান বাছাইপর্বের গ্রুপ এফ এ শীর্ষস্থান অর্জন করে তারা সরাসরি কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে। কোচ রবার্তো মার্টিনেজের অধীনে দলটি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর নেতৃত্বে প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে এটি হবে রোনাল্ডোর সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ।
দলের গ্রুপ কে তে তাদের প্রতিপক্ষ ডিআর কঙ্গো, উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়া। প্রথম ম্যাচ ১৭ জুন হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে। দলের স্কোয়াডে ডিওগো কোস্টা, রুবেন ডায়াস, নুনো মেন্ডেস, ব্রুনো ফার্নান্দেজ, ভিতিনহা, রাফায়েল লেও ও অন্যান্য তরুণ প্রতিভার সমন্বয় রয়েছে, যা তাদেরকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার করে তুলেছে। বিশ্বকাপের আগে তারা মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলে প্রস্তুতি নিয়েছে। পর্তুগালের লক্ষ্য ২০১৬ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করা এবং প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয় করা। রোনাল্ডোর অভিজ্ঞতা ও নতুন প্রজন্মের উদ্যম মিলিয়ে দলটি এবার অনেক দূর যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। খেলা ডেস্কের এই নিবন্ধে চলুন দেখে আসি খেলোয়াড়ী টীম তালিকা ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য স্কোয়াড।

পর্তুগাল দলের সামগ্রিক তথ্য বিবরণী
| বিবরণ | তথ্য |
| মোট মার্কেট ভ্যালু | €৮৪৫.০০ মিলিয়ন |
| স্কোয়াড সাইজ | ২৩ জন খেলোয়াড় |
| গড় বয়স | ২৭.৩ বছর |
| ফিফা র্যাঙ্কিং | ৬ষ্ঠ স্থান |
| প্রধান কোচ | রোবের্তো মার্তিনেস |
পর্তুগাল দলের গোলরক্ষকের তালিকা
পর্তুগালের গোলরক্ষক ইতিহাসে ডিয়োগো কোস্তা একটি নতুন যুগের প্রতিনিধিত্ব করছেন, যেখানে আগের প্রজন্মের কিংবদন্তি গোলরক্ষকদের মতো রুই প্যাট্রিসিও, ভিতর বাইয়া এবং ম্যানুয়েল বেন্টোর উত্তরাধিকার তিনি বহন করছেন। রুই প্যাট্রিসিও ১০৮টি ক্যাপসহ পর্তুগালের সবচেয়ে ক্যাপড গোলরক্ষক, যিনি ২০১৬ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ভিতর বাইয়া ৮০টি ম্যাচ খেলে পোর্তোর হয়ে অসংখ্য ট্রফি জিতেছেন এবং জাতীয় দলে স্থিতিশীলতা এনেছেন।
ম্যানুয়েল বেন্টো তার ছোট উচ্চতা সত্ত্বেও ১৯৭০-৮০ এর দশকে বেনফিকা এবং দলের হয়ে অসাধারণ পারফর্ম করেছেন। এই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় ডিয়োগো কোস্তা আধুনিক ফুটবলের দাবি মেটাতে বল খেলার ক্ষমতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং উচ্চ দাবির ম্যাচে মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছেন। বিশেষ করে নেশন্স লিগ এবং ইউরোতে তার পেনাল্টি সেভগুলো দলকে অনেক ম্যাচে জয় এনে দিয়েছে।
| জার্সি নম্বর | খেলোয়াড় | বয়স | ক্লাব | বাজার মূল্য |
|---|---|---|---|---|
| ১ | ডিওগো কোস্তা | ২৬ | এফসি পোর্তো | €৪০.০০মিলিয়ন |
| ২২ | রুই সিলভা | ৩২ | স্পোর্টিং সিপি | €৭.০০ মিলিয়ন |
| – | জোয়াও কারভালহো | ২১ | এসসি ব্রাগা বি | €১.৫০ মিলিয়ন |
পর্তুগাল দলের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় (ডিফেন্ডার)
পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দলের ডিফেন্স বিভাগ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং ভারসাম্যপূর্ণ ইউনিটগুলোর একটি। কেন্দ্রীয় ডিফেন্ডার হিসেবে রুবেন ডায়াস (ম্যানচেস্টার সিটি) দলের রক্ষণভাগের নেতৃত্ব দেন। ১৯৯৭ সালে জন্মগ্রহণকারী এই খেলোয়াড় তার অসাধারণ ট্যাকলিং, পজিশনিং, বল বিতরণ এবং নেতৃত্বের জন্য পরিচিত। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগ এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অসংখ্য ট্রফি জিতেছেন তিনি। জাতীয় দলে রুবেন ডায়াস পর্তুগালের রক্ষণকে একটি দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করেন, যেখানে তার উপস্থিতি সতীর্থদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। ২০২৬ বিশ্বকাপে তিনি দলের স্পাইন হিসেবে বিবেচিত, যেখানে তার অভিজ্ঞতা এবং মানসিক দৃঢ়তা পর্তুগালকে বড় ম্যাচে স্থিতিশীলতা দেয়।
দিয়োগো দালোত পর্তুগাল দলের ডান পাশের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার, যিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে নিয়মিত খেলেন। ২৭ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় তার শক্তিশালী ট্যাকলিং, কভারিং এবং আধুনিক ফুল-ব্যাকের গুণাবলী দিয়ে দলকে সাহায্য করেন। জাতীয় দলে তিনি জোয়াও ক্যানসেলোর বিকল্প হিসেবে বা সাথে খেলে দলের ডান ফ্ল্যাঙ্ককে স্থিতিশীল রাখেন। দালোতের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং মানসিক দৃঢ়তা তাকে পর্তুগালের গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে তুলেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে তার অভিজ্ঞতা দলের জন্য মূল্যবান হবে।
| জার্সি নম্বর | খেলোয়াড় | পজিশন | বয়স | বাজার মূল্য |
|---|---|---|---|---|
| ২ | নেলসন সেমেদো | রাইট ব্যাক | ৩২ | €৭.০০ মিলিয়ন |
| ৩ | রুবেন দিয়াস | সেন্টার ব্যাক | ২৮ | €৬০.০০ মিলিয়ন |
| ৪ | আন্তোনিও সিলভা | সেন্টার ব্যাক | ২২ | €৩০.০০ মিলিয়ন |
| ৫ | ডিওগো দালোট | রাইট ব্যাক | ২৬ | €৩০.০০ মিলিয়ন |
| ১৩ | রেনাতো ভেইগা | সেন্টার ব্যাক | ২২ | €২৫.০০ মিলিয়ন |
| ১৪ | গনসালো ইনাসিও | সেন্টার ব্যাক | ২৪ | €৪৫.০০ মিলিয়ন |
| ১৫ | মাতেউস নুনেস | রাইট ব্যাক | ২৭ | €৪৫.০০ মিলিয়ন |
পর্তুগাল দলের মধ্যমাঠের খেলোয়াড় (মিডফিল্ডার)
পর্তুগাল জাতীয় দলের মধ্যমাঠ অত্যন্ত শক্তিশালী এবং বৈচিত্র্যময়। ব্রুনো ফার্নান্দেজ এই মধ্যমাঠের প্রাণকেন্দ্র। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই তারকা অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার দলকে সৃজনশীলতা ও গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন। তার দূরপাল্লার শট, অ্যাসিস্ট এবং নেতৃত্ব পর্তুগালকে অনেক ম্যাচে জয় এনে দিয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে তার ফর্ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভিতিনহা বর্তমানে পর্তুগালের মধ্যমাঠে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ে খেলা এই যুবক মিডফিল্ডার দারুণ টেকনিক্যাল দক্ষতা ও বল নিয়ন্ত্রণে পারদর্শী। সে মাঠের মাঝখানে টেম্পো নিয়ন্ত্রণ করে এবং আক্রমণাত্মক খেলায় অবদান রাখে। তার উন্নতি দলকে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করবে। চলুন দেখে আসি পর্তুগাল দলের মধ্যমাঠের খেলোয়াড়দের মধ্যে কে কে রয়েছে।
| জার্সি নম্বর | খেলোয়াড় | পজিশন | বয়স | বাজার মূল্য |
|---|---|---|---|---|
| ৬ | জোয়াও পালহিনিয়া | ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার | ৩০ | €১৮.০০ মিলিয়ন |
| ৮ | ব্রুনো ফার্নান্দেস | অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার | ৩১ | €৪০.০০ মিলিয়ন |
| ১০ | বার্নার্ডো সিলভা | অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার | ৩১ | €২৭.০০ মিলিয়ন |
| ১৫ | জোয়াও নেভেস | সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার | ২১ | €১১০.০০ মিলিয়ন |
| ২১ | রুবেন নেভেস | ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার | ২৯ | €২৫.০০ মিলিয়ন |
| ২৩ | ভিতিনিয়া | ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার | ২৬ | €১১০.০০ মিলিয়ন |
| ১৬ | ফ্রান্সিসকো ত্রিনকাও | অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার | ২৬ | €৩৫.০০ মিলিয়ন |
পর্তুগাল দলের আক্রমণভাগের খেলোয়াড় (ফরোয়ার্ড / অ্যাটাকার)
পর্তুগাল দলের আক্রমণভাগ সবসময়ই তারকা সমৃদ্ধ। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এখনও আক্রমণের প্রধান হুমকি, যিনি গতি, শক্তি ও গোলের ক্ষুধা নিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ছিন্নভিন্ন করেন। তার অভিজ্ঞতা ও লিডারশিপ নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করে। রোনালদোর পাশাপাশি দ্রুতগতির উইঙ্গাররা আক্রমণকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে।
রাফায়েল লিও পর্তুগালের বাঁ প্রান্তে এক আগুনের ঝড়। এসি মিলানের এই তারকা তার অসাধারণ গতি, ড্রিবলিং ও শক্তিশালী শট দিয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের নাজেহাল করে দেন। লিওর আক্রমণাত্মক খেলা দলকে অনেক গোলের সুযোগ করে দেয় এবং ম্যাচের ভারসাম্য বদলে দিতে পারে। তিনি আধুনিক ফুটবলের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। পেদ্রো নেতো চেলসির হয়ে খেলা এই ডান-প্রান্তের উইঙ্গার তার দ্রুত পরিবর্তনশীল দিক, ক্রস ও ড্রিবলিংয়ের জন্য বিখ্যাত। পর্তুগালের আক্রমণে নেতো প্রায়ই বল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করেন। তার ক্রিয়েটিভিটি ও গতি দলের আক্রমণকে আরও গতিশীল ও অপ্রতিরোধ্য করে তোলে। নিচে দলের আক্রমণভাগের খেলোয়াড় তালিকা দেওয়া হল।
| জার্সি নম্বর | খেলোয়াড় | পজিশন | বয়স | বাজার মূল্য |
|---|---|---|---|---|
| ৭ | ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো | সেন্টার ফরোয়ার্ড | ৪১ | €১২.০০মিলিয়ন |
| ৯ | গনসালো রামোস | সেন্টার ফরোয়ার্ড | ২৪ | €৩৫.০০ মিলিয়ন |
| ১১ | জোয়াও ফেলিক্স | সেকেন্ড স্ট্রাইকার | ২৬ | €২৫.০০ মিলিয়ন |
| ১৭ | রাফায়েল লেয়াও | লেফট উইঙ্গার | ২৬ | €৭০.০০ মিলিয়ন |
| ২০ | ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও | রাইট উইঙ্গার | ২৩ | €৩০.০০ মিলিয়ন |
| – | কার্লোস ফোর্বস | লেফট উইঙ্গার | ২১ | €১৮.০০ মিলিয়ন |
আরও পড়ুনঃ ফ্রান্স খেলোয়াড় তালিকা ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য স্কোয়াড কে আছে কে নেই দেখুন!
ফ্র্যাঞ্চাইজি সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন ও উত্তর জেনে নিন
প্রশ্নঃ পর্তুগাল দলের সবচেয়ে বড় সাফল্য কী?
উত্তর: তারা ২০১৬ সালের উয়েফা ইউরো চ্যাম্পিয়ন এবং ২০১৯ সালের প্রথম উয়েফা নেশনস লিগ বিজয়ী।
প্রশ্নঃ পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা কে?
উত্তর: ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, যিনি ২০০৩ সালে অভিষেকের পর থেকে রেকর্ড সংখ্যক গোল করে আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে শীর্ষ গোলদাতা।
প্রশ্নঃ পর্তুগাল দল কোন ফেডারেশনের অধীনে খেলে?
উত্তর: পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (FP…


