পর্তুগাল ও স্পেন এখন পর্যন্ত ৪১ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে স্পেন জিতেছে ১৭টি, পর্তুগাল ৬টি এবং ১৮টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। মোট গোল করেছে স্পেন ৭৯টি ও পর্তুগাল ৪৭টি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবশ্য দুই দলের লড়াই অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পর্তুগাল বনাম স্পেন হেড টু হেড পরিসংখ্যান
ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলো পর্তুগাল বনাম স্পেন। প্রতিবেশী দুই দেশের এই লড়াইকে ফুটবল বিশ্বে আইবেরিয়ান ডার্বি (Iberian Derby) নামে পরিচিত। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে দুই দল আন্তর্জাতিক ফুটবলে অসংখ্য স্মরণীয় ম্যাচ উপহার দিয়েছে। ফিফা বিশ্বকাপ, উয়েফা ইউরো, উয়েফা নেশনস লিগ এবং আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ—সব মিলিয়ে প্রতিবারই এই লড়াই থাকে উত্তেজনায় ভরপুর। নিচের টেবিলে দুই দলের সামগ্রিক মুখোমুখি পরিসংখ্যান এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।
পর্তুগাল বনাম স্পেন সামগ্রিক হেড টু হেড রেকর্ড
| পরিসংখ্যান | 🇵🇹 পর্তুগাল | 🇪🇸 স্পেন |
|---|---|---|
| মোট ম্যাচ | ৪১ | ৪১ |
| জয় | ৬ | ১৭ |
| ড্র | ১৮ | ১৮ |
| মোট গোল | ৪৭ | ৭৯ |
| জয়ের হার | ১৪.৬৩% | ৪১.৪৬% |
| অপরাজিত ম্যাচ | ২৪ | ৩৫ |
প্রতিযোগিতা অনুযায়ী পর্তুগাল বনাম স্পেনের রেকর্ড
দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রীতি ম্যাচেই সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বকাপ, ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ এবং উয়েফা নেশনস লিগের মতো বড় মঞ্চেও তারা একাধিকবার মুখোমুখি হয়েছে। কোন টুর্নামেন্টে কোন দল বেশি সফল হয়েছে এবং কোথায় তাদের পারফরম্যান্স কেমন ছিল, তা নিচের টেবিল থেকে সহজেই জানা যাবে।
প্রতিযোগিতা অনুযায়ী হেড টু হেড
| প্রতিযোগিতা | ম্যাচ | পর্তুগালের জয় | ড্র | স্পেনের জয় | পর্তুগালের গোল | স্পেনের গোল |
|---|---|---|---|---|---|---|
| আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ | ২৯ | ৫ | ১২ | ১২ | ৩৫ | ৫২ |
| ফিফা বিশ্বকাপ | ৬ | ০ | ৪ | ২ | ৭ | ২২ |
| উয়েফা ইউরো | ৩ | ১ | ০ | ২ | ২ | ১ |
| উয়েফা নেশনস লিগ | ৩ | ০ | ১ | ২ | ৩ | ৪ |
| মোট | ৪১ | ৬ | ১৮ | ১৭ | ৪৭ | ৭৯ |
পর্তুগাল বনাম স্পেনের সর্বশেষ ১০টি ম্যাচ
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পর্তুগাল ও স্পেনের ম্যাচগুলো ছিল দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। অনেক ম্যাচই ড্র হয়েছে, আবার কয়েকটি ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়েছে শেষ মুহূর্তের গোলে কিংবা টাইব্রেকারে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের উয়েফা নেশনস লিগ ফাইনাল দুই দলের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম রোমাঞ্চকর লড়াই হিসেবে বিবেচিত হয়। নিচে সর্বশেষ ১০টি মুখোমুখি ম্যাচের ফলাফল তুলে ধরা হলো।
সর্বশেষ ১০টি মুখোমুখি ম্যাচ
| তারিখ | প্রতিযোগিতা | ফলাফল |
|---|---|---|
| ৮ জুন ২০২৫ | উয়েফা নেশনস লিগ ফাইনাল | পর্তুগাল ২-২ স্পেন (পেনাল্টিতে পর্তুগাল ৫-৩ জয়ী) |
| ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ | উয়েফা নেশনস লিগ | পর্তুগাল ০-১ স্পেন |
| ২ জুন ২০২২ | উয়েফা নেশনস লিগ | স্পেন ১-১ পর্তুগাল |
| ৪ জুন ২০২১ | আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ | স্পেন ০-০ পর্তুগাল |
| ৭ অক্টোবর ২০২০ | আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ | পর্তুগাল ০-০ স্পেন |
| ১৫ জুন ২০১৮ | ফিফা বিশ্বকাপ | পর্তুগাল ৩-৩ স্পেন |
| ২৭ জুন ২০১২ | উয়েফা ইউরো সেমিফাইনাল | পর্তুগাল ০-০ স্পেন (পেনাল্টিতে স্পেন জয়ী) |
| ১৭ নভেম্বর ২০১০ | আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ | পর্তুগাল ৪-০ স্পেন |
| ২৯ জুন ২০১০ | ফিফা বিশ্বকাপ | স্পেন ১-০ পর্তুগাল |
| ২০ জুন ২০০৪ | উয়েফা ইউরো | পর্তুগাল ১-০ স্পেন |
পর্তুগাল বনাম স্পেন ম্যাচের উল্লেখযোগ্য রেকর্ড
এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে অনেক স্মরণীয় ঘটনা ও রেকর্ড। প্রথম মুখোমুখি ম্যাচ, সবচেয়ে বড় জয়, সর্বশেষ ম্যাচের ফল এবং সর্বোচ্চ গোলদাতার মতো তথ্য ফুটবলপ্রেমীদের কাছে সবসময়ই বিশেষ আগ্রহের বিষয়। নিচের টেবিলে গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডগুলো তুলে ধরা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য রেকর্ড
| রেকর্ড | তথ্য |
|---|---|
| প্রথম মুখোমুখি | ১৮ ডিসেম্বর ১৯২১ |
| প্রথম ম্যাচের ফল | স্পেন ৩-১ পর্তুগাল |
| সর্বোচ্চ জয় | স্পেন ৯-০ পর্তুগাল (১৯৩৪ বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব) |
| পর্তুগালের সবচেয়ে বড় জয় | পর্তুগাল ৪-০ স্পেন (২০১০, প্রীতি ম্যাচ) |
| সর্বশেষ ম্যাচ | ৮ জুন ২০২৫ |
| সর্বশেষ ফল | পর্তুগাল ২-২ স্পেন (পেনাল্টিতে পর্তুগাল ৫-৩ জয়ী) |
| সর্বাধিক গোলদাতা | ইসিদ্রো লাঙ্গারা (স্পেন) – ৯ গোল |
| পর্তুগালের সর্বোচ্চ গোলদাতা | ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো – ৪ গোল |
এই টেবিল থেকে স্পষ্ট যে স্পেন ঐতিহাসিকভাবে এগিয়ে, কিন্তু সংখ্যার বাইরেও অনেক কাহিনি লুকিয়ে আছে। অনেক ম্যাচই শেষ মুহূর্তের গোলে বা পেনাল্টিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
কম্পিটিটিভ ম্যাচে অবশ্য পরিস্থিতি আরও কঠিন। মাত্র ১২টি কম্পিটিটিভ এনকাউন্টারে স্পেনের আধিপত্য একটু বেশি, তবে পর্তুগালও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়েছে।
ঐতিহাসিক পটভূমি এবং প্রথম ম্যাচ
পর্তুগাল বনাম স্পেন প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছিল ১৯২১ সালে। সেই সময় থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত এই দুই দল প্রায় ৪১ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ফ্রেন্ডলি ম্যাচের সংখ্যাই বেশি, কিন্তু ইউরো, বিশ্বকাপ কিংবা নেশন্স লিগের মতো বড় টুর্নামেন্টেও তাদের দেখা হয়েছে।
শুরুর দিকে স্পেনের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। তারা অনেক বড় বড় জয় পেয়েছে, যার মধ্যে ১৯৩৪ সালের ৯-০ গোলের বিশাল জয় এখনো রেকর্ড হয়ে আছে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে পর্তুগালও ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে রোনালদো যুগে এসে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জমে উঠেছে। দুই দেশের ভৌগোলিক নৈকট্য এবং সাংস্কৃতিক মিল এই রাইভালরিকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
আধুনিক ফুটবলে উভয় দলই বিশ্বের শীর্ষস্থানীয়। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে নিয়মিত টপ টেনে থাকা এই দুই দলের লড়াই তাই সবসময়ই দর্শকদের আকর্ষণ করে।
সাম্প্রতিক বছরের লড়াই এবং উল্লেখযোগ্য ম্যাচ
গত এক দশকে পর্তুগাল বনাম স্পেন হেড টু হেড অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০১৮ বিশ্বকাপে রোনালদোর হ্যাট্রিকে ৩-৩ গোলের থ্রিলার ড্র এখনো ফুটবলপ্রেমীদের মনে দাগ কেটে আছে। সেই ম্যাচে উভয় দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছিল।
২০২২ নেশন্স লিগে স্পেন দুবার পর্তুগালের বিপক্ষে ভালো ফল করলেও ২০২৫ সালের নেশন্স লিগ ফাইনালে পর্তুগাল ২-২ গোলে ড্রয়ের পর পেনাল্টিতে ৫-৩ জয় তুলে নেয়। এই জয় পর্তুগালের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়েছে।
স্পেনের হয়ে মোরাতা, পেদ্রি কিংবা যামালের মতো খেলোয়াড়রা সবসময়ই বিপজ্জনক। অন্যদিকে পর্তুগালের ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বার্নার্দো সিলভা এবং রোনালদো মিলে এক অপ্রতিরোধ্য আক্রমণভাগ গড়ে তোলেন। এই তারকাদের পারফরম্যান্সই ম্যাচের গতি নির্ধারণ করে।
খেলোয়াড়দের অবদান এবং গোল স্কোরার
এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন স্পেনের ইসিদ্রো ল্যাঙ্গারা, যিনি ৭টি গোল করেছিলেন। আধুনিক যুগে রোনালদো একাই বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গোল দিয়েছেন।
পর্তুগালের হয়ে রোনালদোর পাশাপাশি অন্যান্য খেলোয়াড়রাও অবদান রেখেছেন। স্পেনের দিক থেকে ডেভিড ভিয়া, ফার্নান্দো টোরেসের মতো তারকারা এই ম্যাচে স্মরণীয় পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। বর্তমান দলে তরুণ প্রতিভারা নতুন করে এই রাইভালরিকে জীবন্ত করে তুলছে।
দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুধু মাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি তাদের ক্যারিয়ারেরও একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আসন্ন ম্যাচ এবং ভবিষ্যত সম্ভাবনা
২০২৬ বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে আবারও এই দুই দলের দেখা হতে পারে। বর্তমান ফর্ম বিবেচনায় স্পেনের আক্রমণভাগ যেমন শক্তিশালী, তেমনি পর্তুগালের অভিজ্ঞতা তাদেরকে বিপজ্জনক করে তোলে।
বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তরা এই ম্যাচের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা, টিভিতে লাইভ দেখা—সব মিলিয়ে এক উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। দুই দলের কোচরাও এই ম্যাচকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি নেন।
আরও পড়ুনঃ পর্তুগাল খেলোয়াড় তালিকা ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য স্কোয়াড
লামিনে ইয়ামাল মোট গোল মার্কেট ভ্যালু বেতন কত বিস্তারিত জানুন
পর্তুগাল বনাম স্পেন হেড টু হেড পরিসংখ্যান সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
পর্তুগাল বনাম স্পেন হেড টু হেড পরিসংখ্যানে কোন দল এগিয়ে আছে?
স্পেন ঐতিহাসিকভাবে এগিয়ে আছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পর্তুগাল দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছে।
দুই দলের মধ্যে সবচেয়ে বড় জয় কোনটি?
স্পেনের ৯-০ গোলের জয় ১৯৩৪ সালে।
পর্তুগাল বনাম স্পেন হেড টু হেড পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যার সমষ্টি নয়, বরং ফুটবলের এক অসাধারণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার গল্প। স্পেনের ঐতিহ্য এবং পর্তুগালের উত্থান মিলে এই লড়াই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করে চলেছে।
আগামী দিনগুলোতে এই দুই দল আরও অনেক স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেবে বলে আশা করা যায়। যারা ফুটবল ভালোবাসেন, তাদের জন্য এই আইবেরিয়ান ডার্বি সবসময়ই একটি উৎসবের মতো। মাঠে যেই জিতুক, ফুটবলই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়।


