ফুটবল বিশ্বে ব্যক্তিগত সাফল্যের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি কোনটি—এই প্রশ্নের উত্তরে সবার আগে আসে একটি নাম: ব্যালন ডি’অর। প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী উন্মুখ হয়ে থাকেন, কে জিতবেন ফুটবলের এই সোনালি বল।
এই লেখায় আমরা বিস্তারিতভাবে জানব সর্বাধিক ব্যালন ডি’অর জয়ী ফুটবলারদের তালিকা, তাদের ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ দিক এবং পুরস্কারটির সম্পূর্ণ ইতিহাস।
লিওনেল মেসি থেকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, ইয়োহান ক্রুইফ থেকে মিশেল প্লাতিনি—প্রত্যেকেই এই তালিকায় নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখিয়েছেন। চলুন, পুরো ইতিহাসটা এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।
সর্বাধিক ব্যালন ডি’অর জয়ী ফুটবলারদের সম্পূর্ণ তালিকা
দুই বা তার বেশি ব্যালন ডি’অর জেতা ফুটবলারদের তালিকা নিচে দেওয়া হলো।
| র্যাঙ্ক | খেলোয়াড় | দেশ | ব্যালন ডি’অর | জয়ী বছর |
|---|---|---|---|---|
| ১ | লিওনেল মেসি | আর্জেন্টিনা | ৮ | ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৫, ২০১৯, ২০২১, ২০২৩ |
| ২ | ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো | পর্তুগাল | ৫ | ২০০৮, ২০১৩, ২০১৪, ২০১৬, ২০১৭ |
| ৩ | মিশেল প্লাতিনি | ফ্রান্স | ৩ | ১৯৮৩, ১৯৮৪, ১৯৮৫ |
| ৩ | ইয়োহান ক্রুইফ | নেদারল্যান্ডস | ৩ | ১৯৭১, ১৯৭৩, ১৯৭৪ |
| ৩ | মার্কো ফন বাস্তেন | নেদারল্যান্ডস | ৩ | ১৯৮৮, ১৯৮৯, ১৯৯২ |
| ৬ | ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার | পশ্চিম জার্মানি | ২ | ১৯৭২, ১৯৭৬ |
| ৬ | আলফ্রেদো দি স্তেফানো | আর্জেন্টিনা | ২ | ১৯৫৭, ১৯৫৯ |
| ৬ | কেভিন কিগান | ইংল্যান্ড | ২ | ১৯৭৮, ১৯৭৯ |
| ৬ | কার্ল-হাইনজ রুমেনিগে | পশ্চিম জার্মানি | ২ | ১৯৮০, ১৯৮১ |
| ৬ | রোনালদো (ব্রাজিল) | ব্রাজিল | ২ | ১৯৯৭, ২০০২ |
ব্যালন ডি’অর কী?
ইতিহাস
ব্যালন ডি’অর প্রথম প্রবর্তিত হয় ১৯৫৬ সালে। ফরাসি ম্যাগাজিন ফ্রান্স ফুটবল এই পুরস্কারের প্রবর্তক। প্রথম ব্যালন ডি’অর জেতেন ইংল্যান্ডের স্ট্যানলি ম্যাথিউজ। শুরুর দিকে শুধু ইউরোপীয় ফুটবলারদের জন্যই এই পুরস্কার সীমাবদ্ধ ছিল।
আয়োজক ও নির্বাচন প্রক্রিয়া
১৯৯৫ সালে ইউরোপে খেলা যেকোনো দেশের ফুটবলারদের জন্য এটি উন্মুক্ত করা হয়। ২০০৭ সাল থেকে বিশ্বের যেকোনো দেশের ফুটবলার এই পুরস্কারের জন্য যোগ্য বিবেচিত হন।
২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত এটি ফিফা ওয়ার্ল্ড প্লেয়ার অব দ্য ইয়ারের সঙ্গে মিলিত হয়ে “ফিফা ব্যালন ডি’অর” নামে পরিচিত ছিল। ২০১৬ সাল থেকে আবার আগের নামে ফিরে আসে পুরস্কারটি। করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালে কোনো ব্যালন ডি’অর দেওয়া হয়নি। ২০২২ সাল থেকে মূল্যায়নের সময়কাল পরিবর্তন করে ক্যালেন্ডার বছরের বদলে পুরো মৌসুম (আগস্ট–জুলাই) ধরা হয়।
ভোটিং সিস্টেম
ফ্রান্স ফুটবল ও লেকিপ মিলে ৩০ জন খেলোয়াড়ের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০০ দেশের একজন করে সাংবাদিক ভোট দেন। প্রত্যেক ভোটার তার সেরা ১০ জনের একটি ক্রমতালিকা জমা দেন। প্রথম স্থানে ১৫ পয়েন্ট, দ্বিতীয় স্থানে ১২ পয়েন্ট—এভাবে পয়েন্ট বণ্টন হয়। সর্বোচ্চ পয়েন্টপ্রাপ্ত খেলোয়াড় জেতেন পুরস্কার।
যোগ্যতা ও গুরুত্ব
বর্তমানে বিশ্বের যেকোনো দেশের যেকোনো ক্লাবে খেলা ফুটবলার এই পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হতে পারেন। বিশ্ব ফুটবলে এটিই সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত সম্মাননা হিসেবে বিবেচিত হয়।
শীর্ষ ১০ ব্যালন ডি’অর জয়ীর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
লিওনেল মেসি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি ব্যালন ডি’অর জয়ী—৮ বার। আক্রমণভাগে খেলা এই আর্জেন্টাইন তারকা বার্সেলোনায় দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পর পিএসজি ও ইন্টার মায়ামিতে খেলেছেন। ২০২২ বিশ্বকাপ জিতিয়ে আর্জেন্টিনাকে তিনি অমরত্ব দিয়েছেন। তার ধারাবাহিকতা ও গোল করা-করানোর দক্ষতা তাকে সর্বকালের সেরাদের একজন করে তুলেছে।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ৫টি ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। পর্তুগালের এই ফরোয়ার্ড ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্তাসে খেলে অসংখ্য শিরোপা জিতেছেন। ২০১৬ সালে পর্তুগালকে ইউরো চ্যাম্পিয়ন করানো তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সেরা অর্জন। গোলের সংখ্যা ও শারীরিক সক্ষমতায় তিনি অনন্য।
মিশেল প্লাতিনি টানা তিনবার (১৯৮৩-৮৫) ব্যালন ডি’অর জেতা প্রথম খেলোয়াড়। ফরাসি এই মিডফিল্ডার জুভেন্তাসের হয়ে খেলার সময় ইউরোপীয় ফুটবলে আধিপত্য বিস্তার করেন। ফ্রান্স জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে ১৯৮৪ ইউরো জেতান তিনি।
ইয়োহান ক্রুইফ নেদারল্যান্ডসের কিংবদন্তি এই ফরোয়ার্ড আয়াক্স ও বার্সেলোনার হয়ে খেলেছেন। “টোটাল ফুটবল” দর্শনের প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত ক্রুইফ ১৯৭৪ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসকে ফাইনালে তোলেন। তার তিনটি ব্যালন ডি’অরই আসে ৭০-এর দশকে।
মার্কো ফন বাস্তেন এসি মিলানের হয়ে খেলা এই ডাচ স্ট্রাইকার তিনবার ব্যালন ডি’অর জেতেন। ১৯৮৮ ইউরোর ফাইনালে তার অবিশ্বাস্য ভলি গোল আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত হয়। চোটের কারণে তার ক্যারিয়ার তুলনামূলক ছোট হলেও প্রভাব ছিল বিশাল।
ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার জার্মান ফুটবলের কিংবদন্তি ডিফেন্ডার, “লিবেরো” পজিশনের অন্যতম আবিষ্কারক। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে খেলা বেকেনবাওয়ার ১৯৭৪ বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানিকে চ্যাম্পিয়ন করান। দুইবার ব্যালন ডি’অর জেতা এই তারকা রক্ষণভাগ থেকে খেলা নিয়ন্ত্রণে অনন্য ছিলেন।
আলফ্রেদো দি স্তেফানো রিয়াল মাদ্রিদের স্বর্ণযুগের কারিগর। আর্জেন্টিনায় জন্ম নেওয়া এই ফরোয়ার্ড রিয়ালকে টানা ইউরোপিয়ান কাপ জেতাতে মুখ্য ভূমিকা রাখেন। ১৯৫৭ ও ১৯৫৯ সালে ব্যালন ডি’অর জেতেন তিনি, যা তাকে পুরস্কারের প্রথম দিককার কিংবদন্তিদের একজন করে তোলে।
কেভিন কিগান ইংলিশ ফুটবলের অন্যতম সফল ফরোয়ার্ড। লিভারপুল থেকে জার্মান ক্লাব হামবুর্গার এসভিতে যোগ দিয়ে ১৯৭৮ ও ১৯৭৯ সালে টানা ব্যালন ডি’অর জেতেন কিগান। তার কর্মক্ষমতা ও গোল করার দক্ষতা তাকে ইউরোপের অন্যতম সেরা করে তোলে।
কার্ল-হাইনজ রুমেনিগে বায়ার্ন মিউনিখের এই ফরোয়ার্ড ১৯৮০ ও ১৯৮১ সালে ব্যালন ডি’অর জেতেন। পশ্চিম জার্মানিকে ১৯৮০ ইউরো জেতানো এবং দুইবার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বড় অর্জন।
রোনালদো (ব্রাজিল), যাকে “এল ফেনোমেনো” বলা হয়, ১৯৯৭ ও ২০০২ সালে ব্যালন ডি’অর জেতেন। ইন্টার মিলান ও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলা এই স্ট্রাইকার ২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে শিরোপা জেতান এবং সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। তাকে আধুনিক স্ট্রাইকিংয়ের অগ্রদূত মনে করা হয়।
বছরভিত্তিক সম্পূর্ণ ব্যালন ডি’অর বিজয়ীর তালিকা (১৯৫৬–২০২৫)
| বছর | বিজয়ী | দেশ | ক্লাব |
|---|---|---|---|
| ১৯৫৬ | স্ট্যানলি ম্যাথিউজ | ইংল্যান্ড | ব্ল্যাকপুল |
| ১৯৫৭ | আলফ্রেদো দি স্তেফানো | আর্জেন্টিনা | রিয়াল মাদ্রিদ |
| ১৯৫৮ | রেমন্ড কোপা | ফ্রান্স | রিয়াল মাদ্রিদ |
| ১৯৫৯ | আলফ্রেদো দি স্তেফানো | আর্জেন্টিনা | রিয়াল মাদ্রিদ |
| ১৯৬০ | লুইস সুয়ারেজ | স্পেন | বার্সেলোনা |
| ১৯৬১ | ওমার সিভোরি | ইতালি | জুভেন্টাস |
| ১৯৬২ | জোসেফ মাসোপুস্ত | চেকোস্লোভাকিয়া | দুকলা প্রাগ |
| ১৯৬৩ | লেভ ইয়াশিন | সোভিয়েত ইউনিয়ন | দিনামো মস্কো |
| ১৯৬৪ | ডেনিস ল | স্কটল্যান্ড | ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড |
| ১৯৬৫ | ইউসেবিও | পর্তুগাল | বেনফিকা |
| ১৯৬৬ | ববি চার্লটন | ইংল্যান্ড | ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড |
| ১৯৬৭ | ফ্লোরিয়ান আলবার্ট | হাঙ্গেরি | ফেরেন্সভারোস |
| ১৯৬৮ | জর্জ বেস্ট | নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড | ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড |
| ১৯৬৯ | জিয়ানি রিভেরা | ইতালি | এসি মিলান |
| ১৯৭০ | গার্ড মুলার | পশ্চিম জার্মানি | বায়ার্ন মিউনিখ |
| ১৯৭১ | ইয়োহান ক্রুইফ | নেদারল্যান্ডস | আয়াক্স |
| ১৯৭২ | ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার | পশ্চিম জার্মানি | বায়ার্ন মিউনিখ |
| ১৯৭৩ | ইয়োহান ক্রুইফ | নেদারল্যান্ডস | বার্সেলোনা |
| ১৯৭৪ | ইয়োহান ক্রুইফ | নেদারল্যান্ডস | বার্সেলোনা |
| ১৯৭৫ | ওলেগ ব্লখিন | সোভিয়েত ইউনিয়ন | দিনামো কিয়েভ |
| ১৯৭৬ | ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার | পশ্চিম জার্মানি | বায়ার্ন মিউনিখ |
| ১৯৭৭ | অ্যালান সিমোনসেন | ডেনমার্ক | বরুশিয়া মনশেনগ্লাডবাখ |
| ১৯৭৮ | কেভিন কিগান | ইংল্যান্ড | হামবুর্গার এসভি |
| ১৯৭৯ | কেভিন কিগান | ইংল্যান্ড | হামবুর্গার এসভি |
| ১৯৮০ | কার্ল-হাইনজ রুমেনিগে | পশ্চিম জার্মানি | বায়ার্ন মিউনিখ |
| ১৯৮১ | কার্ল-হাইনজ রুমেনিগে | পশ্চিম জার্মানি | বায়ার্ন মিউনিখ |
| ১৯৮২ | পাওলো রসি | ইতালি | জুভেন্টাস |
| ১৯৮৩ | মিশেল প্লাতিনি | ফ্রান্স | জুভেন্টাস |
| ১৯৮৪ | মিশেল প্লাতিনি | ফ্রান্স | জুভেন্টাস |
| ১৯৮৫ | মিশেল প্লাতিনি | ফ্রান্স | জুভেন্টাস |
| ১৯৮৬ | ইগর বেলানভ | সোভিয়েত ইউনিয়ন | দিনামো কিয়েভ |
| ১৯৮৭ | রুড খুলিত | নেদারল্যান্ডস | এসি মিলান |
| ১৯৮৮ | মার্কো ফন বাস্তেন | নেদারল্যান্ডস | এসি মিলান |
| ১৯৮৯ | মার্কো ফন বাস্তেন | নেদারল্যান্ডস | এসি মিলান |
| ১৯৯০ | লোথার ম্যাটেউস | জার্মানি | ইন্টার মিলান |
| ১৯৯১ | জঁ পিয়ের পাপাঁ | ফ্রান্স | অলিম্পিক মার্শেই |
| ১৯৯২ | মার্কো ফন বাস্তেন | নেদারল্যান্ডস | এসি মিলান |
| ১৯৯৩ | রবার্তো বাজ্জো | ইতালি | জুভেন্টাস |
| ১৯৯৪ | হ্রিস্তো স্তোইচকভ | বুলগেরিয়া | বার্সেলোনা |
| ১৯৯৫ | জর্জ উইয়াহ | লাইবেরিয়া | এসি মিলান |
| ১৯৯৬ | মাথিয়াস সামার | জার্মানি | বরুশিয়া ডর্টমুন্ড |
| ১৯৯৭ | রোনালদো | ব্রাজিল | ইন্টার মিলান |
| ১৯৯৮ | জিনেদিন জিদান | ফ্রান্স | জুভেন্টাস |
| ১৯৯৯ | রিভালদো | ব্রাজিল | বার্সেলোনা |
| ২০০০ | লুইস ফিগো | পর্তুগাল | রিয়াল মাদ্রিদ |
| ২০০১ | মাইকেল ওয়েন | ইংল্যান্ড | লিভারপুল |
| ২০০২ | রোনালদো | ব্রাজিল | রিয়াল মাদ্রিদ |
| ২০০৩ | পাভেল নেদভেদ | চেক প্রজাতন্ত্র | জুভেন্টাস |
| ২০০৪ | আন্দ্রি শেভচেঙ্কো | ইউক্রেন | এসি মিলান |
| ২০০৫ | রোনালদিনহো | ব্রাজিল | বার্সেলোনা |
| ২০০৬ | ফাবিও কান্নাভারো | ইতালি | রিয়াল মাদ্রিদ |
| ২০০৭ | কাকা | ব্রাজিল | এসি মিলান |
| ২০০৮ | ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো | পর্তুগাল | ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড |
| ২০০৯ | লিওনেল মেসি | আর্জেন্টিনা | বার্সেলোনা |
| ২০১০ | লিওনেল মেসি | আর্জেন্টিনা | বার্সেলোনা |
| ২০১১ | লিওনেল মেসি | আর্জেন্টিনা | বার্সেলোনা |
| ২০১২ | লিওনেল মেসি | আর্জেন্টিনা | বার্সেলোনা |
| ২০১৩ | ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো | পর্তুগাল | রিয়াল মাদ্রিদ |
| ২০১৪ | ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো | পর্তুগাল | রিয়াল মাদ্রিদ |
| ২০১৫ | লিওনেল মেসি | আর্জেন্টিনা | বার্সেলোনা |
| ২০১৬ | ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো | পর্তুগাল | রিয়াল মাদ্রিদ |
| ২০১৭ | ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো | পর্তুগাল | রিয়াল মাদ্রিদ |
| ২০১৮ | লুকা মদরিচ | ক্রোয়েশিয়া | রিয়াল মাদ্রিদ |
| ২০১৯ | লিওনেল মেসি | আর্জেন্টিনা | বার্সেলোনা |
| ২০২০ | কোভিড ১৯ মহামারির কারণে ব্যালন ডি’অর প্রদান করা হয়নি। | ||
| ২০২১ | লিওনেল মেসি | আর্জেন্টিনা | পিএসজি |
| ২০২২ | করিম বেনজেমা | ফ্রান্স | রিয়াল মাদ্রিদ |
| ২০২৩ | লিওনেল মেসি | আর্জেন্টিনা | ইন্টার মায়ামি |
| ২০২৪ | রদ্রি | স্পেন | ম্যানচেস্টার সিটি |
| ২০২৫ | ওসমান দেম্বেলে | ফ্রান্স | পিএসজি |
ব্যালন ডি’অর রেকর্ডসমূহ
- সর্বাধিক ব্যালন ডি’অর জয়: লিওনেল মেসি (৮টি)।
- টানা সর্বাধিক জয়: লিওনেল মেসি, ২০০৯ থেকে ২০১২—টানা চারবার।
- সর্বকনিষ্ঠ বিজয়ী: ব্রাজিলিয়ান রোনালদো, ১৯৯৭ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে পুরস্কার জেতেন।
- সর্বজ্যেষ্ঠ বিজয়ী: স্ট্যানলি ম্যাথিউজ, ১৯৫৬ সালে ৪১ বছর বয়সে প্রথম ব্যালন ডি’অর জেতেন।
- সর্বাধিক মনোনয়ন ও পডিয়াম ফিনিশ: মেসি ও রোনালদো—দুজনেই প্রায় প্রতি বছর শীর্ষ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন, ঐতিহাসিকভাবে যা এক অনন্য নজির।
- জাতীয়তা অনুযায়ী সর্বাধিক জয়: আর্জেন্টিনা (মোট ১০টি—মেসি ও দি স্তেফানো মিলিয়ে)।
- ক্লাব হিসেবে সর্বাধিক জয় (খেলোয়াড় সেই ক্লাবে থাকাকালীন): বার্সেলোনা।
- লিগ অনুযায়ী সর্বাধিক জয়: লা লিগা (স্পেন), রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি বিজয়ীর জন্ম দিয়েছে।
- একমাত্র গোলরক্ষক বিজয়ী: লেভ ইয়াশিন, ১৯৬৩ সালে।
- মহামারির কারণে বাতিল একমাত্র সংস্করণ: ২০২০।
দেশভিত্তিক ব্যালন ডি’অর বিজয়ী
| দেশ | মোট বিজয়ী (ভিন্ন খেলোয়াড়) | মোট ব্যালন ডি’অর |
|---|---|---|
| 🇦🇷 আর্জেন্টিনা | ২ | ১০ |
| 🇫🇷 ফ্রান্স | ৬ | ৮ |
| 🇵🇹 পর্তুগাল | ৩ | ৭ |
| 🇳🇱 নেদারল্যান্ডস | ৩ | ৭ |
| 🇩🇪 জার্মানি (পশ্চিম জার্মানি সহ) | ৫ | ৭ |
| 🇧🇷 ব্রাজিল | ৪ | ৫ |
| 🇮🇹 ইতালি | ৫ | ৫ |
| 🏴 ইংল্যান্ড | ৪ | ৫ |
| 🇷🇺 সোভিয়েত ইউনিয়ন | ৩ | ৩ |
| 🇪🇸 স্পেন | ২ | ২ |
| 🇨🇿 চেকোস্লোভাকিয়া / চেক প্রজাতন্ত্র | ২ | ২ |
| 🏴 স্কটল্যান্ড | ১ | ১ |
| 🇭🇺 হাঙ্গেরি | ১ | ১ |
| 🇬🇧 নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড | ১ | ১ |
| 🇩🇰 ডেনমার্ক | ১ | ১ |
| 🇧🇬 বুলগেরিয়া | ১ | ১ |
| 🇱🇷 লাইবেরিয়া | ১ | ১ |
| 🇺🇦 ইউক্রেন | ১ | ১ |
| 🇭🇷 ক্রোয়েশিয়া | ১ | ১ |
ক্লাবভিত্তিক ব্যালন ডি’অর বিজয়ী
| ক্লাব | মোট ব্যালন ডি’অর |
|---|---|
| 🔵🔴 বার্সেলোনা | ১২ |
| ⚪ রিয়াল মাদ্রিদ | ১১ |
| 🔴⚫ এসি মিলান | ৮ |
| ⚫⚪ জুভেন্টাস | ৮ |
| 🔴 বায়ার্ন মিউনিখ | ৫ |
| 🔴 ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড | ৪ |
| 🔵⚫ ইন্টার মিলান | ২ |
| 🔵 দিনামো কিয়েভ | ২ |
| 🔷 হামবুর্গার এসভি | ২ |
| 🔵🔴 পিএসজি | ২ |
| ⚪🔴 আয়াক্স | ১ |
| 🔴 বেনফিকা | ১ |
| 🔴 লিভারপুল | ১ |
| 🟡⚫ বরুশিয়া ডর্টমুন্ড | ১ |
| 🔵 ম্যানচেস্টার সিটি | ১ |
| 🩷 ইন্টার মায়ামি | ১ |
| অন্যান্য (একবার করে জয়ী) | ৯ |
কিছু আকর্ষণীয় তথ্য
১. প্রথম ব্যালন ডি’অর জেতেন স্ট্যানলি ম্যাথিউজ, ১৯৫৬ সালে।
২. লিওনেল মেসি একমাত্র খেলোয়াড় যিনি ৮টি ব্যালন ডি’অর জিতেছেন।
৩. লেভ ইয়াশিনই একমাত্র গোলরক্ষক যিনি ব্যালন ডি’অর জিতেছেন।
৪. ২০২০ সালে করোনা মহামারির কারণে কোনো ব্যালন ডি’অর দেওয়া হয়নি।
৫. ২০১০-২০১৫ সময়কালে এটি “ফিফা ব্যালন ডি’অর” নামে পরিচিত ছিল।
৬. ২০১৮ সালে ব্যালন ডি’অর ফেমিনিন চালু হয়, যার প্রথম বিজয়ী আদা হেগারবার্গ।
৭. মিশেল প্লাতিনি টানা তিনবার (১৯৮৩-৮৫) ব্যালন ডি’অর জেতেন।
৮. জর্জ উইয়াহ প্রথম আফ্রিকান খেলোয়াড় হিসেবে ব্যালন ডি’অর জেতেন, ১৯৯৫ সালে।
৯. রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা মিলিয়ে অর্ধেকের বেশি ব্যালন ডি’অর জিতেছে।
১০. ২০২৪ সাল থেকে উয়েফা ব্যালন ডি’অর গালার আয়োজক হলেও ভোটিং সিস্টেম ও নাম এখনো ফ্রান্স ফুটবল-এর নিয়ন্ত্রণে।
১১. ২০২৫ সালে ওসমান দেম্বেলে প্রথমবারের মতো ব্যালন ডি’অর জিতে ফ্রান্সের সপ্তম বিজয়ী হন।
আরও পড়ুন
ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি গোলদাতা
ব্যালন ডি’অর বিজয়ীদের পূর্ণ তালিকা (১৯৫৬–২০২৫): সর্বকালের সব Ballon d’Or Winners এক নজরে
২০২৬ ব্যালন ডি’অর পাওয়ার র্যাঙ্কিং (Ballon d’Or 2026 Power Rankings): শীর্ষ ১০ ফেভারিট
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)
সবচেয়ে বেশি ব্যালন ডি’অর কে জিতেছেন?
লিওনেল মেসি, মোট ৮টি ব্যালন ডি’অর জিতে সবচেয়ে বেশি জয়ী তিনি।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কতবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন?
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো মোট ৫টি ব্যালন ডি’অর জিতেছেন।
প্রথম ব্যালন ডি’অর কে জিতেছিলেন?
১৯৫৬ সালে ইংল্যান্ডের স্ট্যানলি ম্যাথিউজ প্রথম ব্যালন ডি’অর জেতেন।
কোন বছর ব্যালন ডি’অর দেওয়া হয়নি?
২০২০ সালে করোনা মহামারির কারণে কোনো ব্যালন ডি’অর দেওয়া হয়নি।
ব্যালন ডি’অর কে আয়োজন করে?
ফরাসি ম্যাগাজিন ফ্রান্স ফুটবল এই পুরস্কার আয়োজন করে, ২০২৪ থেকে উয়েফা গালা আয়োজনে যুক্ত হয়েছে।
একমাত্র গোলরক্ষক হিসেবে কে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন?
সোভিয়েত ইউনিয়নের লেভ ইয়াশিন, ১৯৬৩ সালে।
২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অর কে জিতেছেন?
ফ্রান্সের ওসমান দেম্বেলে ২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অর জেতেন, যিনি পিএসজির হয়ে খেলেন।
উপসংহার
১৯৫৬ সাল থেকে আজ পর্যন্ত ব্যালন ডি’অর ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিগত পুরস্কার হিসেবে টিকে আছে। সর্বাধিক ব্যালন ডি’অর জয়ী ফুটবলারদের তালিকা দেখলেই বোঝা যায়, কীভাবে প্রতিটি প্রজন্মে নতুন এক কিংবদন্তি নিজের জায়গা করে নিয়েছেন।
স্ট্যানলি ম্যাথিউজ থেকে শুরু করে মেসি-রোনালদোর দ্বৈরথ পেরিয়ে এখন দেম্বেলে-রদ্রির মতো নতুন তারকাদের হাত ধরে এই পুরস্কার এগিয়ে চলেছে। ভবিষ্যতেও এটি ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মাননা হিসেবেই বিবেচিত হবে।


