ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের আকাশে নতুন এক নক্ষত্রের উদয় হয়েছে, যার নাম এস্তেভাও উইলিয়ান। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তিনি ফুটবল বিশ্বের নজর কেড়েছেন তার জাদুকরী ড্রিবলিং আর ক্ষিপ্রগতির জন্য। শৈশবে লিওনেল মেসির খেলার ধরনের সাথে মিল থাকায় ভালোবেসে সবাই তাকে ডাকতেন ‘মেসিনহো’ বা ‘ছোট মেসি’ নামে।
- ব্রাজিলের সবচেয়ে আলোচিত তরুণ ফুটবলার যিনি বিশ্ব ফুটবলে নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছেন
- প্রারম্ভিক জীবন এবং ক্যারিয়ার
- ক্যারিয়ারের মূল মাইলফলক
- সিনিয়র ক্যারিয়ারে উত্থান
- চেলসিতে স্থানান্তর
- ২০২৫-২৬ সাল ক্লাব পরিসংখ্যানে এস্তেভাও উইলিয়ান
- খেলার ধরন এবং শক্তিমত্তা
- আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার
- ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
- এস্তেভাও উইলিয়ান সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
তবে এস্তেভাও এখন আর কারো ছায়ায় থাকতে চান না। নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় নিয়ে পালমেইরাস থেকে এবার তিনি পাড়ি জমাচ্ছেন ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী ক্লাব চেলসিতে। ব্রাজিলের ঘরোয়া লিগে রেকর্ড ভেঙে ইউরোপের বড় বড় ক্লাবগুলোকে পেছনে ফেলে চেলসি তাকে দলে ভিড়িয়েছে ভবিষ্যতের এক মহাতারকা হিসেবে।
ব্রাজিলের সবচেয়ে আলোচিত তরুণ ফুটবলার যিনি বিশ্ব ফুটবলে নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছেন
এস্তেভাও ইতোমধ্যে ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে ইতিহাস গড়েছেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে চিলির বিপক্ষে ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে তিনি গোল করেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে করা এই গোলটি তাকে কিংবদন্তি পেলের পর ব্রাজিলের হয়ে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে গোল করা সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে দিয়েছে।
ইউরোপের অনেক বড় ক্লাবকে (যেমন: বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ) পেছনে ফেলে চেলসি তাকে দলে ভিড়িয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্লুজদের ডেরায় যোগ দেন। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে পা রাখার পর থেকেই প্রিমিয়ার লিগ এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তিনি তার প্রতিভার ঝলক দেখাচ্ছেন।
এস্তেভাও উইলিয়ানকে মনে করা হচ্ছে নেইমারের পর ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় প্রতিভা। কেবল ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নয়, বরং দলের প্রয়োজনে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বা উইঙ্গার হিসেবে যেকোনো পজিশনে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা তাকে আধুনিক ফুটবলের এক নতুন সম্পদে পরিণত করেছে।
প্রারম্ভিক জীবন এবং ক্যারিয়ার
২৪ এপ্রিল ২০০৭ সালে ব্রাজিলের সাও পাওলোতে জন্ম নেওয়া এস্তেভাও উইলিয়ান আলমেইদা দে অলিভেইরা গনসালভেস, যিনি সাধারণত এস্তেভাও নামে পরিচিত। বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে উজ্জ্বল তরুণ প্রতিভাদের একজন।মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি ইতিমধ্যে ব্রাজিলীয় ফুটবলে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন এবং প্রিমিয়ার লিগের মঞ্চে নিজের শক্তি প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত।
এস্তেভাও তার ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেন ক্রুজেইরোর ইয়ুথ একাডেমিতে ২০১৭ সালে। সেখানেই তার অসাধারণ দক্ষতা এবং বল নিয়ন্ত্রণের কারণে তাকে ‘মেসিনহো’ বা ‘লিটল মেসি’ ডাকনাম দেওয়া হয়। মাত্র ১০ বছর বয়সে তিনি নাইকির সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ব্রাজিলের সবচেয়ে কম বয়সী ফুটবলার হিসেবে এই অর্জন লাভ করেন, যা রদ্রিগো এবং নেইমারের রেকর্ড ভেঙে দেয়।
২০২১ সালে এস্তেভাও পালমেইরাসের ইয়ুথ একাডেমিতে যোগ দেন এবং দ্রুত নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০২২ সালে তিনি পালমেইরাসের ইয়ুথ দলকে একাধিক শিরোপা জিততে সাহায্য করেন, যার মধ্যে রয়েছে ক্যাম্পিওনাতো পাউলিস্তা আন্ডার-১৭, কোপা দো ব্রাসিল আন্ডার-১৭ এবং ক্যাম্পিওনাতো ব্রাসিলেইরো আন্ডার-১৭।
ক্যারিয়ারের মূল মাইলফলক
| সাল | ক্লাব | ঘটনা |
|---|---|---|
| ২০১৭ | ক্রুজেইরো | ইয়ুথ একাডেমিতে যোগদান |
| ২০১৭ | – | নাইকির সাথে চুক্তি (১০ বছর বয়সে) |
| ২০২১ | পালমেইরাস | ইয়ুথ একাডেমিতে স্থানান্তর |
| ২০২২ | পালমেইরাস | ৩টি ইয়ুথ শিরোপা জয় |
| ডিসেম্বর ২০২৩ | পালমেইরাস | সিনিয়র দলে অভিষেক (১৬ বছর ৮ মাস) |
| এপ্রিল ২০২৪ | পালমেইরাস | কোপা লিবার্তাদোরেসে প্রথম গোল |
| সেপ্টেম্বর ২০২৪ | ব্রাজিল | জাতীয় দলে অভিষেক |
| জুলাই ২০২৫ | চেলসি | প্রিমিয়ার লিগে স্থানান্তর |
সিনিয়র ক্যারিয়ারে উত্থান
ডিসেম্বর ২০২৩ সালে মাত্র ১৬ বছর ৮ মাস বয়সে এস্তেভাও পালমেইরাসের হয়ে সিনিয়র দলে অভিষেক করেন। তার প্রথম ম্যাচটি ছিল ক্রুজেইরোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র, যে ম্যাচে পালমেইরাস ব্রাজিলিয়ান সেরি এ শিরোপা জয় করে।২০২৪ সালে এস্তেভাও সত্যিকারের তারকা হিসেবে আবির্ভূত হন। এপ্রিল মাসে তিনি কোপা লিবার্তাদোরেসে লিভারপুলের বিরুদ্ধে ৩-১ গোলে জয়ে তার প্রথম গোল করেন, যা তাকে ১৭ বছরের কম বয়সী তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জনে সাহায্য করে। নভেম্বর ২০২৪ সালে তিনি ১৮ বছরের কম বয়সী প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে সেরি এ-তে একটি সিজনে ২০টি গোল এবং অ্যাসিস্ট রেকর্ড করেন।
চেলসিতে স্থানান্তর
২২ জুন ২০২৪ সালে প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব চেলসি ঘোষণা করে যে এস্তেভাও ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে, তার ১৮তম জন্মদিনে ক্লাবে যোগ দেবেন। এই চুক্তিটি প্রায় ৩৪ মিলিয়ন ইউরো এবং অতিরিক্ত ২৩ মিলিয়ন ইউরো পারফরম্যান্স-ভিত্তিক প্রণোদনা সহ সম্পন্ন হয়। ১৪ জুলাই ২০২৫ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে চেলসিতে যোগদান করেন এবং ২০৩৩ সাল পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ হন।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৫ ফিফা ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তার চেলসিতে যোগদানের ঠিক আগে এস্তেভাও পালমেইরাসের হয়ে তার ভবিষ্যৎ ক্লাব চেলসির বিরুদ্ধে খেলেন এবং গোল করেন, যদিও পালমেইরাস শেষ পর্যন্ত হেরে যায়।
২০২৫-২৬ সাল ক্লাব পরিসংখ্যানে এস্তেভাও উইলিয়ান
| ক্লাব | ম্যাচ | গোল | এসিস্ট |
|---|---|---|---|
| প্রিমিয়ার লীগ | ১৭ | ১ | ১ |
| উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ | ৫ | ৩ | ০ |
| ইএফএল লীগ | ২ | ১ | ০ |
| সর্বমোট | ২৪ | ৫ | ১ |
খেলার ধরন এবং শক্তিমত্তা
এস্তেভাও একজন বাঁ-পায়ের খেলোয়াড় যিনি প্রধানত রাইট উইঙ্গার এবং আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে খেলেন। তার খেলার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো অসাধারণ বল নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিপক্ষকে ছাড়িয়ে যাওয়ার দক্ষতা এবং দ্রুত গতিতে পরিবর্তন ও প্রবাহিত চলন। এছাড়া তার মধ্যে মেসির মতো প্রতিরক্ষার দুর্বল স্থান চিহ্নিত করা, ফ্রি কিক এবং কর্নার থেকে গোল করার দক্ষতা আছে।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার
এস্তেভাও ২৩ আগস্ট ২০২৪ সালে প্রথমবার ব্রাজিল জাতীয় দলে ডাক পান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের জন্য। ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে তিনি অভিষেক করেন এবং ব্রাজিল ১-০ গোলে জয়ী হয়। ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালে চিলির বিরুদ্ধে ৩-০ জয়ে তিনি তার প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করেন।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
এস্তেভাও উইলিয়ান এখন প্রিমিয়ার লিগের মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য প্রস্তুত। চেলসি তাদের তরুণ প্রতিভা সংগ্রহ করার কৌশলের অংশ হিসেবে তাকে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ হিসেবে দেখছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে তিনি নেইমারের পর ব্রাজিল থেকে উদ্ভূত সবচেয়ে বড় প্রতিভা হতে পারেন।
‘মেসিনহো’ ডাকনাম থেকে নিজস্ব পরিচয় তৈরি করার চেষ্টায় রত এস্তেভাও, বিশ্ব ফুটবলের পরবর্তী মহাতারকা হওয়ার পথে এগিয়ে চলেছেন। তার অসাধারণ প্রতিভা, পরিশ্রম এবং মানসিক শক্তি তাকে আগামী দিনের ফুটবল জগতের অন্যতম প্রধান খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।
এস্তেভাও উইলিয়ান সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
এস্তেভাও উইলিয়ান কোন ক্লাবে খেলে?
এস্তেভাও উইলিয়ান একজন ব্রাজিলিয়ান পেশাদার ফুটবলার যিনি প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব চেলসি এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে উইঙ্গার হিসেবে খেলেন।
এস্তেভাও উইলিয়ানের বয়স কত?
এস্তেভাও উইলিয়ানের বয়স ১৮ বছর।
এস্তেভাও উইলিয়ান কি বাম উইং খেলতে পারে?
এস্তেভাও উইলিয়ান বাম উইংয়ে খেলতে পারেন এবং বাম পায়ে শট নিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
এস্তেভাও উইলিয়ান এর আইডল কে?
এস্তেভাও উইলিয়ানের আইডল হলেন লিওনেল মেসি এবং নেইমার।
এস্তেভাও উইলিয়ান এর বাজার মূল্য কত?
ব্রাজিলিয়ান বিস্ময়বালক এস্তেভাও উইলিয়ানের বাজার মূল্য বর্তমানে প্রায় ৮০ মিলিয়ন ইউরো।
এস্তেভাও উইলিয়ান ফিফা ২০২৬ রেটিং?
পালমেইরাস থেকে স্থানান্তরিত হওয়ার পর এস্তেভাও উইলিয়ান ফ্র্যাঞ্চাইজিতে প্রথমবারের মতো উপস্থিত হচ্ছেন এবং ৭৮ রেটিং পেয়েছেন।



