ফুটবলের বিশ্বে দুই তরুণ তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং আর্লিং হাল্যান্ডের নাম উঠলে সবার মনে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খায় এমবাপ্পে বনাম হাল্যান্ড কে সেরা? এই দুই খেলোয়াড়ই বর্তমান যুগের সেরা স্ট্রাইকারদের মধ্যে অন্যতম, যারা গোল করার ক্ষমতা, গতি এবং খেলার স্টাইলে অসাধারণ। ২০২৬ সালে এসে তাদের ক্যারিয়ার দেখলে বোঝা যায়, উভয়ই ক্লাব এবং জাতীয় দলের জন্য অসংখ্য অবদান রেখেছেন। এমবাপ্পে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর থেকে লা লিগা এবং চ্যাম্পিয়ন্স লীগে দুর্দান্ত পারফর্ম করছেন, যেখানে হাল্যান্ড ম্যানচেস্টার সিটির সাথে প্রিমিয়ার লীগে রাজত্ব করছেন। দুজনেই বিশ্বের সেরা স্ট্রাইকার, কিন্তু তাদের স্টাইল আর সাফল্য একেবারে আলাদা। খেলা ডেস্ক এর এই নিবন্ধে জানুন এমবাপ্পে বনাম হাল্যান্ড কে সেরা বিস্তারিত।
এমবাপ্পে বনাম হাল্যান্ড পরিসংখ্যান ও পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এসে দুজনের পারফরম্যান্স এতটাই কাছাকাছি যে একজনকে স্পষ্টভাবে এগিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। তবু সংখ্যা, গোলের হার, অ্যাসিস্ট, শারীরিক দক্ষতা ও ট্রফির তুলনা করে দেখলে একটা স্পষ্ট ছবি ফুটে ওঠে। নিচে রয়েছে ২০২৫-২৬ মৌসুম ও ক্যারিয়ারের সর্বশেষ পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ।
| বিভাগ | কিলিয়ান এমবাপ্পে (রিয়াল মাদ্রিদ) | আর্লিং হাল্যান্ড (ম্যানচেস্টার সিটি) |
|---|---|---|
| বর্তমান বয়স | ২৭ বছর ২ মাস | ২৫ বছর ৬ মাস |
| মোট সিনিয়র ম্যাচ (ক্লাব + জাতীয়) | ৫৬৮ | ৪১৯ |
| মোট গোল | ৪২৭ | ৩৪৫ |
| মোট অ্যাসিস্ট | ১৭৩ | ৬৫ |
| মোট গোল + অ্যাসিস্ট | ৬০০ | ৪১০ |
| গোল প্রতি ম্যাচ | ০.৭৫ | ০.৮২ |
| মিনিট প্রতি গোল | প্রতি ৯৮ মিনিট | প্রতি ৮৭ মিনিট |
| চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচ | ৯৫ | ৫৬ |
| চ্যাম্পিয়ন্স লিগ গোল | ৬৮ (সর্বকালের ৬ষ্ঠ) | ৫৬ (সর্বকালের ১০ম) |
| ঘরোয়া লিগে মোট গোল | ২৪৫ | ২২১ |
| জাতীয় দলে ম্যাচ | ৯৪ | ৪৮ |
| জাতীয় দলে গোল | ৫৫ | ৫৫ |
| মেজর ট্রফি (সিনিয়র) | ১৭টি (বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, লা লিগা সহ) | ১২টি (চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, প্রিমিয়ার লিগ, ক্লাব বিশ্বকাপ সহ) |
| বাজার মূল্য | €২০০ মিলিয়ন | €২০০ মিলিয়ন |
ক্যারিয়ারে এমবাপ্পে এগিয়ে আছেন গোল ও ট্রফির সংখ্যায়। তাঁর ২০১৮ বিশ্বকাপ জয় এখনও অতুলনীয়। হাল্যান্ড কিন্তু গোল-প্রতি-মিনিটে আরও ক্লিনিক্যাল — তিনি খেলেন কম ম্যাচ কিন্তু প্রায় সমান গোল করেন।
খেলার স্টাইল ও শারীরিক দক্ষতা
যদি আপনি গতি, ড্রিবলিং ও বড় ম্যাচের নায়ক খুঁজছেন — এমবাপ্পে। যদি খাঁটি গোল মেশিন ও শারীরিক আধিপত্য চান — হাল্যান্ড।
গোলের রাজা হাল্যান্ড নাকি অলরাউন্ডার এমবাপ্পে?
একদিকে আর্লিং হাল্যান্ড — যিনি বক্সের ভিতরে গোলের রাজা, প্রতি ম্যাচে যেন মেশিনের মতো জাল কাঁপান। অন্যদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পে — গতি, ড্রিবলিং, অ্যাসিস্ট, ডিফেন্স ভাঙা, সবকিছুতে অসাধারণ এক অলরাউন্ডার। ২০২৫-২৬ মৌসুমের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সর্বশেষ পরিসংখ্যান দেখলে দুজনের লড়াই আরও রোমাঞ্চকর হয়ে ওঠে।
হাল্যান্ড: গোলের খাঁটি রাজা
নরওয়ের এই স্ট্রাইকার ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে এই মৌসুমে ৪১ ম্যাচ খেলে করেছেন ৪২ গোল এবং ৭ অ্যাসিস্ট। প্রিমিয়ার লিগে ২৭ ম্যাচে ২২ গোল, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৮ ম্যাচে ৭ গোল। তার শারীরিক শক্তি, এরিয়াল ডুয়েলে ৬৩%+ সাফল্য এবং বক্সের ভিতরে ফিনিশিং অপ্রতিরোধ্য। হাল্যান্ড গোল করেন না — তিনি গোল “তৈরি” করেন। প্রতি ৭২ মিনিটে একটি গোলের হার তাকে বিশ্বের সবচেয়ে ক্লিনিক্যাল ফিনিশার বানিয়েছে।
এমবাপ্পে: অলরাউন্ডারের আদর্শ উদাহরণ
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এমবাপ্পে এই মৌসুমে ৩৫ ম্যাচে ৪৩ গোল এবং ৭ অ্যাসিস্ট করেছেন। লা লিগায় ২২ ম্যাচে ২৩ গোল, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৭ ম্যাচে ১৩ গোল! তার ৩৮ কিমি/ঘণ্টা গতি, ড্রিবলিংয়ের দক্ষতা এবং একক ক্ষমতা তাকে শুধু গোল স্কোরার নয়, পুরো দলের খেলা বদলে দেওয়ার মতো খেলোয়াড় বানিয়েছে। বিশ্বকাপ জয়ী এই ফরাসি তারকা ডিফেন্সকে ছিন্নভিন্ন করেন, অ্যাসিস্ট দেন এবং বড় ম্যাচে নায়ক হয়ে ওঠেন।
এমবাপ্পে অনেক বেশি ম্যাচ খেলেছেন এবং অ্যাসিস্টে অনেক এগিয়ে — যা তাকে সত্যিকারের অলরাউন্ডার বানিয়েছে। হাল্যান্ড কম ম্যাচে অনেক বেশি গোল করেছেন এবং গোলের হারে এগিয়ে — তিনি গোলের খাঁটি রাজা।
এমবাপ্পে বনাম হাল্যান্ড ২০২৬ সালে কে এগিয়ে
চলতি সিজনে দুজনেই অসাধারণ ফর্মে। এমবাপ্পে ৩৫ ম্যাচে ৪৩ গোল আর ৭ অ্যাসিস্ট করেছেন। প্রতি ম্যাচে গড়ে ১.২৩ গোল। হাল্যান্ড ৪১ ম্যাচে ৪২ গোল আর ৭ অ্যাসিস্ট—প্রতি ম্যাচে ১.০২ গোল। এমবাপ্পে লা লিগায় ২৩ গোল, হাল্যান্ড প্রিমিয়ার লিগে ২২ গোল। চ্যাম্পিয়নস লিগে এমবাপ্পে ১৩ গোল, হাল্যান্ড ৭ গোল। এমবাপ্পে কম ম্যাচ খেলেও বেশি গোল করছেন।
নিচে টেবিলে দেখুন এমবাপ্পে বনাম হাল্যান্ড কে সেরা এই সিজনে: ২০২৫-২৬ মৌসুমের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সর্বশেষ পরিসংখ্যান দেখলে দুজনের লড়াই আরও রোমাঞ্চকর হয়ে ওঠে।
| বিভাগ | হাল্যান্ড (গোলের রাজা) | এমবাপ্পে (অলরাউন্ডার) |
|---|---|---|
| মোট ম্যাচ | ৪১ | ৩৫ |
| মোট গোল | ৪২ | ৪৩ |
| অ্যাসিস্ট | ৭ | ৭ |
| গোল+অ্যাসিস্ট | ৪৯ | ৫০ |
| চ্যাম্পিয়ন্স লিগ গোল | ৭ (৮ ম্যাচ) | ১৩ (৭ ম্যাচ) |
| গোল প্রতি মিনিট | প্রতি ৭২ মিনিটে ১ গোল | প্রতি ৭০ মিনিটে ১ গোল |
| এরিয়াল/ড্রিবলিং সাফল্য | ৬৩% এরিয়াল | ৮৫%+ ড্রিবলিং |
| বড় ম্যাচে প্রভাব | গোল মেশিন | খেলা বদলে দেওয়া |
২০২৬ সালে কিলিয়ান এমবাপ্পে বর্তমানে সামান্য এগিয়ে আছেন তার অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের জন্য। কিন্তু সিজন এখনও শেষ হয়নি। মার্চ-এপ্রিলের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নকআউট আর লিগের শেষ দৌড় দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।
এমবাপ্পে এবং আর্লিং হাল্যান্ডের মধ্যে কে সেরা? — এই প্রশ্নের উত্তর আসলে নির্ভর করে আপনার পছন্দের ফুটবল স্টাইলের উপর। বর্তমানে দুজনই বিশ্বের সেরা দুই স্ট্রাইকার এবং তাদের প্রতিযোগিতা ফুটবলকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলছে।

আপনার মত কী? কমেন্টে জানান — এমবাপ্পে নাকি হাল্যান্ড?
আরও পরুনঃ আরলিং হলান্ডের মোট গোল কত ২০২৬ দেখুন সর্বশেষ আপডেট
এমবাপ্পে বনাম হাল্যান্ড সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
২০২৬ সালে এমবাপ্পে বনাম হাল্যান্ড কে বেশি গোল করেছেন?
২০২৬ মৌসুমে হাল্যান্ড সাধারণত গোলসংখ্যায় এগিয়ে থাকেন, কারণ তিনি মূল স্ট্রাইকার হিসেবে খেলেন। এমবাপ্পে গোলের পাশাপাশি অ্যাসিস্ট ও আক্রমণ তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
ড্রিবলিং ও গতিতে এমবাপ্পে বনাম হাল্যান্ড কে এগিয়ে?
গতির দিক থেকে এমবাপ্পে বিশ্বের অন্যতম দ্রুত ফুটবলার। ১ বনাম ১ পরিস্থিতিতে তিনি ডিফেন্ডারদের সহজেই কাটিয়ে উঠতে পারেন।
এমবাপ্পে বনাম হাল্যান্ড ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনায় কে এগিয়ে?
দলীয় সাফল্য, ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান এবং বড় টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্সের উপর নির্ভর করে ব্যালন ডি’অর নির্ধারিত হয়। দুজনই ভবিষ্যতের শক্তিশালী দাবিদার।
ক্লাব পারফরম্যান্সে এমবাপ্পে বনাম হাল্যান্ড কে বেশি সফল?
হাল্যান্ড লিগ ও ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় নিয়মিত গোল করে থাকেন। এমবাপ্পে বিভিন্ন পজিশনে খেলে দলের আক্রমণভাগকে গতিশীল রাখেন।



