সঞ্জু স্যামসন জন্মগ্রহণ করেন ১১ নভেম্বর ১৯৯৪ সালে। তিনি একজন ভারতীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার, যিনি মূলত সাদা বলের ক্রিকেটে ভারতের জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। স্যামসন ডানহাতি উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত। তিনি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে কেরালার প্রতিনিধিত্ব করেন। এছাড়া তিনি ২০২৪ সালের টি২০ বিশ্বকাপ জয়ী ভারতীয় দলের একজন সদস্য ছিলেন।
তার ক্রিকেট জীবনের শুরু দিল্লিতে হলেও পরে তিনি কেরালায় চলে আসেন এবং সেখান থেকেই ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের পরিচিতি তৈরি করেন। জুনিয়র পর্যায়ে দারুণ পারফরম্যান্স করার পর ২০১১ সালে কেরালার হয়ে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক করেন। ২০১৪ সালের অনূর্ধ্ব ১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে তিনি ভারতীয় অনূর্ধ্ব ১৯ দলের সহ অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৩ সালে আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে অভিষেকের মাধ্যমে তিনি সবার নজর কেড়ে নেন এবং সেই মৌসুমেই বর্ষসেরা উদীয়মান খেলোয়াড় পুরস্কার অর্জন করেন। পরে ২০১৯-২০ বিজয় হাজারে ট্রফিতে তিনি অপরাজিত ২১২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন, যা লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে কোনো ভারতীয়ের করা ষষ্ঠ ডাবল সেঞ্চুরি এবং এই ফরম্যাটে দ্বিতীয় দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরি।
সঞ্জু স্যামসন এর টি২০ পরিসংখ্যান
সঞ্জু স্যামসনকে ২০১৪ সালের অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একটি টি২০ ম্যাচের জন্য দলে নেওয়া হলেও ম্যাচটি পরে বাতিল হয়ে যায়। পরে ২০১৫ সালের ১৯ জুলাই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারেতে তিনি টি২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক করেন। ২০১৯ সালের অক্টোবরে চার বছর পর বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের জন্য আবার তাকে ভারতের টি২০ দলে ডাকা হয়, তবে পুরো সিরিজে তিনি বেঞ্চে ছিলেন। একই বছরের নভেম্বরে শিখর ধাওয়ানের ইনজুরির কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি২০ সিরিজে তাকে দলে নেওয়া হয়।
২০১৯ সালে ডিসেম্বরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি২০ সিরিজে তিনি একটি ম্যাচ খেলেন। প্রথম বলেই ছক্কা মারলেও দ্বিতীয় বলেই আউট হয়ে যান। পরে নিউজিল্যান্ড সফরের টি২০ সিরিজে আহত শিখর ধাওয়ানের বদলি হিসেবে সুযোগ পেলেও ব্যাট হাতে বড় প্রভাব ফেলতে পারেননি। ২০২০ সালের অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের জন্য তাকে আবার ভারতের টি২০ দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং তিনি তিনটি ম্যাচ খেলে কিছু ভালো শট খেলে প্রশংসা পান। তবে ২০২১ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি২০ সিরিজে তিন ম্যাচে মোট ৩৪ রান করার পর খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে ২০২১ সালের টি২০ বিশ্বকাপের দলে তিনি জায়গা পাননি।
| পরিসংখ্যান | মান |
|---|---|
| ফরম্যাট | টি২০ |
| ম্যাচ | ৬১ |
| ইনিংস | ৫৩ |
| নট আউট | ৫ |
| রান | ১৩১০ |
| সর্বোচ্চ স্কোর | ১১১ |
| গড় | ২৭.২৯ |
| বল মোকাবিলা | ৮৪৬ |
| স্ট্রাইক রেট | ১৫৪.৮৪ |
| শতক | ৩ |
| অর্ধশতক | ৫ |
| চার | ১১০ |
| ছক্কা | ৭৬ |
| ক্যাচ | ৪০ |
| স্ট্যাম্পিং | ৭ |
সঞ্জু স্যামসন এর ওডিআই পরিসংখ্যান
২০১৪ সালের আগস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ৫টি ওয়ানডে ও একটি টি২০ ম্যাচের সিরিজের জন্য সঞ্জু স্যামসনকে ভারতের ১৭ সদস্যের দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এটি তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরুতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ ছিল। তবে সেই সিরিজে তিনি চূড়ান্ত একাদশে সুযোগ পাননি এবং পুরো সিরিজেই দলের ব্যাকআপ খেলোয়াড় হিসেবে ছিলেন। এরপর ২০১৫ সালের জুলাই মাসে আম্বাতি রায়ডু ইনজুরিতে পড়লে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের জন্য সঞ্জু স্যামসনকে ভারতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এটি তার জন্য আবারও জাতীয় দলের সঙ্গে থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ ছিল।
পরবর্তীতে ৯ নভেম্বর ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের জন্য তাকে ভারতের ওডিআই দলে নেওয়া হয়। এই সময়ে তিনি সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দলের সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিলেন। ২০২১ সালের জুন মাসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের জন্য সঞ্জু স্যামসনকে ভারতের ওডিআই দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অবশেষে ২৩ জুলাই ২০২১ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তৃতীয় ওডিআই ম্যাচে তিনি তার আন্তর্জাতিক ওয়ানডে অভিষেক করেন। সেই ম্যাচে তিনি ৪৬ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। যদিও তার ভালো পারফরম্যান্স সত্ত্বেও ভারত ম্যাচটি জিততে পারেনি।
| পরিসংখ্যান | মান |
|---|---|
| ফরম্যাট | ওডিআই |
| ম্যাচ | ১৬ |
| ইনিংস | ১৪ |
| নট আউট | ৫ |
| রান | ৫১০ |
| সর্বোচ্চ স্কোর | ১০৮ |
| গড় | ৫৬.৬৬ |
| বল মোকাবিলা | ৫১২ |
| স্ট্রাইক রেট | ৯৯.৬০ |
| শতক | ১ |
| অর্ধশতক | ৩ |
| চার | ৩৪ |
| ছক্কা | ২২ |
| ক্যাচ | ৯ |
| স্ট্যাম্পিং | ২ |
সঞ্জু স্যামসন এর আইপিএল পরিসংখ্যান
সঞ্জু স্যামসন ২০০৯ সালের আইপিএলের আগে কলকাতা নাইট রাইডার্স তাকে খেলোয়াড় পুলে রাখে এবং ২০১২ মৌসুমে চুক্তিবদ্ধ করলেও তিনি কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। ২০১৩ সালে তিনি রাজস্থান রয়্যালসে যোগ দেন এবং একই বছর কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব ( বর্তমানে পাঞ্জাব কিংস ) এর বিপক্ষে আইপিএলে অভিষেক করেন। তার দ্বিতীয় ম্যাচেই ৪১ বলে ৬৩ রান করে তিনি তখনকার সর্বকনিষ্ঠ আইপিএল অর্ধশতককারী হন এবং ২০১৩ মৌসুমে ২০৬ রান করে উদীয়মান খেলোয়াড় পুরস্কার জেতেন। পরে দিল্লি ক্যাপিটালসে খেলেন এবং ২০১৭ সালে রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টের বিপক্ষে নিজের প্রথম টি২০ সেঞ্চুরি করেন। ২০১৮ সালে তিনি আবার রাজস্থান রয়্যালসে ফিরে আসেন এবং ২০১৯ সালে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে অপরাজিত ১০২ রান করেন।
২০২১ সালে তিনি রাজস্থান রয়্যালসের অধিনায়ক হন এবং অধিনায়ক হিসেবে প্রথম ম্যাচেই সেঞ্চুরি করেন ও আইপিএলে ৩০০০ রান পূর্ণ করেন। তার নেতৃত্বে ২০২২ সালে দলটি ফাইনালে উঠে রানার্স আপ হয়। ২০২৩ মৌসুমে তিনি ৩৬২ রান করেন এবং ২০২৪ মৌসুমে ১৬ ম্যাচে ৫৩১ রান করে নিজের সেরা আইপিএল মৌসুম কাটান। পরে ২০২৬ আইপিএলের আগে ১৫ নভেম্বর ২০২৫ সালে রাজস্থান রয়্যালস তাকে চেন্নাই সুপার কিংসে ট্রেড করে। যেখানে বিনিময়ে রবীন্দ্র জাদেজা এবং স্যাম কারান রাজস্থান রয়্যালসে যোগ দেন।
| পরিসংখ্যান | মান |
|---|---|
| ফরম্যাট | আইপিএল |
| ম্যাচ | ১৭৭ |
| ইনিংস | ১৭২ |
| নট আউট | ২০ |
| রান | ৪৭০৪ |
| সর্বোচ্চ স্কোর | ১১৯ |
| গড় | ৩০.৯৪ |
| বল মোকাবিলা | ৩৩৮৩ |
| স্ট্রাইক রেট | ১৩৯.০৪ |
| শতক | ৩ |
| অর্ধশতক | ২৬ |
| চার | ৩৭৯ |
| ছক্কা | ২১৯ |
| ক্যাচ | ৮৬ |
| স্ট্যাম্পিং | ১৭ |
আরও পরুনঃ ফিন অ্যালেন এর পরিসংখ্যান ২০২৬
সঞ্জু স্যামসন এর নিয়ে কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন-১ঃ সঞ্জু স্যামসনের খেলার ধরন কী?
উত্তরঃ সঞ্জু স্যামসন একজন আক্রমণাত্মক ব্যাটার এবং উইকেটকিপার।
প্রশ্ন-২ঃ সঞ্জু স্যামসন আইপিএলে কোন দলে খেলেন?
উত্তরঃ সঞ্জু স্যামসন চেন্নাই সুপার কিংস দলের হয়ে খেলেন।
প্রশ্ন-৩ঃ সঞ্জু স্যামসনের আইপিএলে কতটি সেঞ্চুরি আছে?
উত্তরঃ সঞ্জু স্যামসনের আইপিএলে ৩টি সেঞ্চুরি আছে।


