ক্রোয়েশিয়া জাতীয় ফুটবল দল বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণীয় এবং ওভারঅ্যাচিভার দল হিসেবে পরিচিত। মাত্র ৪০ লক্ষেরও কম জনসংখ্যার এই ছোট্ট বালকান দেশ স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছে। ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে তারা তৃতীয় স্থান অর্জন করে বিশ্বকে চমকে দেয়। সবচেয়ে বড় অর্জন আসে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে, যেখানে লুকা মড্রিচের নেতৃত্বে তারা ফাইনালে উঠে রানার্সআপ হয়। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও তারা তৃতীয় স্থান লাভ করে। এছাড়া ২০২৩ সালে উয়েফা নেশন্স লিগের ফাইনালে রানার্সআপ হয়েছে।
ক্রোয়েশিয়ার সাফল্যের মূলে রয়েছে তাদের কৌশলগত বুদ্ধিমত্তা, শারীরিক ফিটনেস এবং অদম্য মানসিকতা। ছোট দেশ হওয়া সত্ত্বেও তারা বারবার বড় দলগুলোকে হারিয়ে প্রমাণ করেছে যে ফুটবলে জনসংখ্যা বা অর্থ নয়, বরং প্রতিভা ও ঐক্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ বিশ্বকাপে আবারও তারা চমক দেখাতে প্রস্তুত। খেলা ডেস্কের এই নিবন্ধে চলুন দেখে আসি খেলোয়াড়ী টীম তালিকা ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য স্কোয়াড।

ক্রোয়েশিয়া দলের সামগ্রিক তথ্য বিবরণী
| বিবরণ | তথ্য |
|---|---|
| মোট মার্কেট ভ্যালু | € ২৫৫.৩০ মিলিয়ন |
| স্কোয়াড সাইজ | ২৬ জন খেলোয়াড় |
| গড় বয়স | ২৮.২ বছর |
| ফিফা র্যাঙ্কিং | ১১ তম স্থান |
| প্রধান কোচ | জ্লাতকো দালিচ |
ক্রোয়েশিয়া দলের গোলরক্ষকের তালিকা
ক্রোয়েশিয়া জাতীয় ফুটবল দলের গোলরক্ষক বিভাগ বর্তমানে (২০২৬ সালে) বেশ শক্তিশালী এবং অভিজ্ঞ। প্রধান গোলরক্ষক হলেন ডমিনিক লিভাকোভিচ। তিনি ৩১ বছর বয়সী, ১৮৮ সেমি লম্বা এবং দলের নাম্বার ১ গোলকিপার। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্স বিশেষ করে পেনাল্টি সেভ ক্রোয়েশিয়াকে ফাইনাল ও তৃতীয় স্থানে তুলতে বড় ভূমিকা রেখেছে। বর্তমানে তিনি দিনামো জাগরেবের হয়ে খেলছেন। তাঁর ক্যাপ সংখ্যা ৭০ এর বেশি এবং তিনি এখনো জাতীয় দলের অবিসংবাদিত প্রথম পছন্দ।
কখনো কখনো ডমিনিক কোটার্স্কি বা ইভিকা ইভুসিচের মতো খেলোয়াড়দেরও স্কোয়াডে দেখা যায়, তবে মূল তিনজনই কোচ জ্লাতকো ডালিচের সবশেষ স্কোয়াডে ২০২৬ বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ও ফ্রেন্ডলি ম্যাচ স্থান পেয়েছেন।লিভাকোভিচের অভিজ্ঞতা, রিফ্লেক্স এবং বড় ম্যাচের চাপ সামলানোর ক্ষমতা ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক লাইনের সবচেয়ে বড় শক্তি। ২০২৬ বিশ্বকাপে তাঁর পারফরম্যান্স আবারও দলের সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি হতে পারে। চলুন দেখে আসি ক্রোয়েশিয়া দলের গোলরক্ষকের তালিকা।
| জার্সি নং | নাম | পজিশন | বয়স | ক্লাব | বাজার মূল্য |
|---|---|---|---|---|---|
| ১ | ডোমিনিক লিভাকোভিচ | গোলরক্ষক | ৩১ | দিনামো জাগরেব | €৪.০০ মিলিয়ন |
| ১২ | ইভর পাণ্ডুর | গোলরক্ষক | ২৫ | হাল সিটি | €৩.৫০ মিলিয়ন |
| ২৩ | কার্লো লেটিকা | গোলরক্ষক | ২৯ | লসান-স্পোর্ট | €১.৫০ মিলিয়ন |
ক্রোয়েশিয়া দলের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় (ডিফেন্ডার)
ক্রোয়েশিয়া জাতীয় ফুটবল দলের রক্ষণভাগ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ শক্তিশালী এবং সুপরিকল্পিত বলে পরিচিত। ম্যানচেস্টার সিটির তারকা জোশকো গভারদিওল রক্ষণের মূল স্তম্ভ, যিনি তার গতি, বল নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণাত্মক অবদানের জন্য বিখ্যাত। তার সাথে আজাক্সের জোসিপ শুতালো, ফিওরেন্টিনার মারিন পংরাচিচ, রিয়াল সোসিয়েদাদের দুয়ে ক্যালেটা কার এবং বায়ার্ন মিউনিখের জোসিপ স্তানিসিচর মতো অভিজ্ঞ ও উদীয়মান খেলোয়াড়রা মিলে একটি ভারসাম্যপূর্ণ রক্ষণ গড়ে তোলেন।
এছাড়াও মার্তিন এরলিচ এবং তরুণ লুকা ভুসকোভিচও বিকল্প হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কোচ জ্লাতকো দালিচের অধীনে এই রক্ষণভাগ সাধারণত সংগঠিত, শারীরিকভাবে শক্তিশালী এবং কাউন্টার আক্রমণ রোধে দক্ষ, যা ক্রোয়েশিয়াকে বিশ্বকাপ ২০২৬ এর যোগ্যতা অর্জনে সাহায্য করেছে। তবে সেট পিস ডিফেন্সে মাঝেমধ্যে দুর্বলতা দেখা যায়। নিচে ক্রোয়েশিয়া দলের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় তালিকা দেওয়া হল।
| জার্সি নং | নাম | পজিশন | বয়স | ক্লাব | বাজার মূল্য |
|---|---|---|---|---|---|
| – | লুকা ভুসকোভিচ | সেন্টার-ব্যাক | ১৯ | হামবুর্গ | €৪০.০০ মিলিয়ন |
| ৬ | যোসিপ শুতালো | সেন্টার-ব্যাক | ২৬ | আয়াক্স | €১৫.০০ মিলিয়ন |
| ৩ | মারিন পংগ্রাচিচ | সেন্টার-ব্যাক | ২৮ | ফিওরেন্টিনা | €৭.৫০ মিলিয়ন |
| ২২ | মার্টিন এরলিচ | সেন্টার-ব্যাক | ২৮ | মিডটিয়াল্যান্ড | €৪.০০ মিলিয়ন |
| ৫ | দুয়ে কালেটা-কার | সেন্টার-ব্যাক | ২৯ | রিয়াল সোসিয়েদাদ | €৩.০০ মিলিয়ন |
| ২ | যোসিপ স্টানিসিচ | রাইট-ব্যাক | ২৫ | বায়ার্ন মিউনিখ | €৩২.০০ মিলিয়ন |
| – | ইভান স্মোলচিচ | রাইট-ব্যাক | ২৫ | কোমো | €২.৫০ মিলিয়ন |
ক্রোয়েশিয়া দলের মধ্যমাঠের খেলোয়াড় (মিডফিল্ডার)
ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো ডালিচের অধীনে ক্রোয়েশিয়ার মধ্যমাঠ শুধু আক্রমণাত্মক নয়, বরং প্রতিরক্ষামূলকভাবেও শক্তিশালী, যা তাদেরকে বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মতো বড় টুর্নামেন্টে প্রতিযোগিতামূলক করে তোলে। এই মিশ্র অভিজ্ঞতা ও যুবশক্তির সমন্বয় ক্রোয়েশিয়াকে মধ্যমাঠে অন্যতম সেরা দলগুলোর একটি করে রেখেছে।
ক্রোয়েশিয়া জাতীয় ফুটবল দলের মধ্যমাঠ বিশ্ব ফুটবলে দীর্ঘদিন ধরে অসাধারণ গুণমান ও গভীরতার জন্য পরিচিত। এই বিভাগের নেতৃত্বে রয়েছেন কিংবদন্তি লুকা মডরিচ, যিনি ৪০ বছর বয়সেও অসাধারণ দক্ষতা, পাসিং, ভিশন ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দলকে পরিচালনা করেন। সাম্প্রতিক সময়ে উদীয়মান প্রতিভা যেমন পেতার সুচিচ, লুকা সুচিচ, মার্টিন বাতুরিনা এবং টোনি ফ্রুক মধ্যমাঠে নতুন শক্তি যোগ করেছেন, যারা দ্রুতগতির খেলা, ড্রিবলিং ও গোলের সুযোগ সৃষ্টিতে দক্ষ। চলুন দেখে আসি দলটির মধ্যমাঠের খেলোয়াড়দের মধ্যে কে কে রয়েছে।
| জার্সি নং | নাম | পজিশন | বয়স | ক্লাব | বাজার মূল্য |
|---|---|---|---|---|---|
| ৮ | নিকোলা মোরো | রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার | ২৮ | বোলোনিয়া | €৬.৫০ মিলিয়ন |
| ১৮ | ক্রিস্টিয়ান ইয়াকিচ | রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার | ২৮ | অগসবুর্গ | €৬.০০ মিলিয়ন |
| ১৭ | পেতার সুচিচ | কেন্দ্রীয় মিডফিল্ডার | ২২ | ইন্টার মিলান | €৩০.০০ মিলিয়ন |
| – | লুকা সুচিচ | কেন্দ্রীয় মিডফিল্ডার | ২৩ | রিয়াল সোসিয়েদাদ | €১০.০০ মিলিয়ন |
| ১৫ | মারিও পাশালিচ | কেন্দ্রীয় মিডফিল্ডার | ৩১ | আতালান্তা | €৭.০০ মিলিয়ন |
| ১০ | লুকা মদ্রিচ | কেন্দ্রীয় মিডফিল্ডার | ৪০ | এসি মিলান | €৪.০০ মিলিয়ন |
| – | মার্টিন বাতুরিনা | আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার | ২৩ | কোমো | €১৮.০০ মিলিয়ন |
| – | লভরো মায়ের | আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার | ২৮ | ভলফসবুর্গ | €১৫.০০ মিলিয়ন |
| ১৩ | নিকোলা ভ্লাসিচ | আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার | ২৮ | তোরিনো | €৯.০০ মিলিয়ন |
| ১৯ | টনি ফ্রুক | আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার | ২৫ | রিয়েকা | €৯.০০ মিলিয়ন |
| ৯ | আন্দ্রেই ক্রামারিচ | আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার | ৩৪ | হফেনহাইম | €৩.০০ মিলিয়ন |
ক্রোয়েশিয়া দলের আক্রমণভাগের খেলোয়াড় (ফরোয়ার্ড / অ্যাটাকার)
ক্রোয়েশিয়া জাতীয় ফুটবল দলের আক্রমণভাগ বর্তমানে অভিজ্ঞতা ও নতুন প্রতিভার এক আকর্ষণীয় মিশ্রণ। আইভান পেরিশিচের অভিজ্ঞতা, আন্দ্রেজ ক্রামারিচের ফিনিশিং দক্ষতা এবং আন্তে বুদিমিরের শারীরিক শক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইগর মাতানোভিচ , পেতার মুসা এবং ফ্রানজো ইভানোভিচের মতো উদীয়মান ফরোয়ার্ডরা।
অন্যদিকে মধ্যমাঠ থেকে লুকা মদ্রিচ, লোভরো মায়ের, মার্কো পাশালিচ বা পেতার সুচিচের সৃজনশীল পাস ও সাপোর্টে এই আক্রমণভাগ প্রায়ই দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক ও সেট পিসে ভয়ংকর হয়ে ওঠে, যদিও বয়সজনিত কারণে কিছু খেলোয়াড়ের ফর্মের ওঠানামা দলের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
| জার্সি নং | নাম | পজিশন | বয়স | ক্লাব | বাজার মূল্য |
|---|---|---|---|---|---|
| ১৪ | ইভান পেরিসিচ | বাম উইঙ্গার | ৩৭ | পিএসভি | €১.৩০ মিলিয়ন |
| ৭ | মার্কো পাশালিচ | ডান উইঙ্গার | ২৫ | অরল্যান্ডো সিটি | €৬.৫০ মিলিয়ন |
| ১১ | পেতার মুসা | কেন্দ্রীয় ফরোয়ার্ড | ২৮ | ডালাস | €৭.০০ মিলিয়ন |
| ২১ | ইগর মাতানোভিচ | কেন্দ্রীয় ফরোয়ার্ড | ২২ | ফ্রেইবুর্গ | €৭.০০ মিলিয়ন |
| – | আন্তে বুদিমির | কেন্দ্রীয় ফরোয়ার্ড | ৩৪ | ওসাসুনা | €৩.০০ মিলিয়ন |
আরও পড়ুনঃ জার্মানি খেলোয়াড় তালিকা ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য স্কোয়াড
ফ্র্যাঞ্চাইজি সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন ও উত্তর জেনে নিন
প্রশ্ন ১: ক্রোয়েশিয়া জাতীয় ফুটবল দল কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তর: ১৯৪১ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেললেও, আধুনিক ক্রোয়েশিয়া দল হিসেবে ১৯৯৩ সালে ফিফা ও উয়েফা’র সদস্যপদ লাভ করে।
প্রশ্ন ৪: ক্রোয়েশিয়ার সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ও গোলদাতা খেলোয়াড় কে?
উত্তর: কিংবদন্তি মিডফিল্ডার লুকা মদ্রিচ দলের পক্ষে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন [৮]। আর ডাভর শুকের ছিলেন ১৯৯৮ বিশ্বকাপে শীর্ষ গোলদাতা।
প্রশ্ন ৬: ক্রোয়েশিয়ার প্রধান হোম স্টেডিয়াম কোনটি?
উত্তর: জাগরেবের ম্যাক্সিমির স্টেডিয়াম।
প্রশ্ন ৩: বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার সেরা সাফল্য কী?
উত্তর: ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে ফাইনালে ওঠা এবং রানার্স-আপ হওয়া। এছাড়া ১৯৯৮ এবং ২০২২ সালে তৃতীয় স্থান লাভ করে।
খেলা ডেস্কের প্রিয় পাঠক,
আপনার অবিরাম ভালোবাসা ও সমর্থন আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রেরণা। প্রতিদিন আপনি আমাদের ওয়েবসাইটে সময় দিয়ে খেলার সর্বশেষ খবর, বিশ্লেষণ ও আপডেট পড়ছেন বলে আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আপনার এই উৎসাহ ছাড়া খেলা ডেস্কের এই যাত্রা কখনোই এতদূর আসতে পারত না। ধন্যবাদ আপনাকে, আমাদের পাশে থাকার জন্য।


