মরক্কো জাতীয় ফুটবল দল, যা অ্যাটলাস লায়ন্স নামে পরিচিত, আফ্রিকা ও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল। রয়্যাল মরক্কান ফুটবল ফেডারেশনের অধীনে পরিচালিত এই দলটি ১৯৫৯ সাল থেকে সিএএফ এবং ১৯৬০ সাল থেকে ফিফা এর সদস্য। লাল সবুজ জার্সিতে খেলা এই দলটি শক্তিশালী ডিফেন্স, দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক এবং দলীয় সংহতির জন্য বিখ্যাত।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে মরক্কো ইতিহাস গড়ে প্রথম আফ্রিকান ও আরব দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে উঠে চতুর্থ স্থান অর্জন করে। স্পেন ও পর্তুগালকে হারিয়ে তারা বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল। এছাড়া ১৯৭৬ সালে আফ্রিকা কাপ অফ নেশন্স জিতেছিল এবং ২০২৫ সালে আবারও আফ্রিকা কাপ অফ নেশন্স চ্যাম্পিয়ন হয় (সেনেগালের বিরুদ্ধে ফাইনালের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর সিএএফ এর রায়ে)। ২০২৬ বিশ্বকাপের আফ্রিকান বাছাইপর্বে তারা অপরাজিত থেকে (৮ ম্যাচে ৮ জয়) সরাসরি কোয়ালিফাই করে, যা তাদের তৃতীয়বারের মতো টানা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।
বর্তমানে (২০২৬) ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে মরক্কো শীর্ষ ১০ এর মধ্যে রয়েছে এবং আফ্রিকার সেরা দলগুলোর একটি। দলের মূল স্তম্ভ ক্যাপ্টেন আচরাফ হাকিমি (প্যারিস সেন্ট-জার্মেই), গোলকিপার ইয়াসিন বোনু, ব্রাহিম দিয়াজ, নুসাইর মাজরাউইসহ ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবে খেলা অনেক তারকা ফুটবলার। যুব পর্যায়েও মরক্কো দুর্দান্ত ২০২৫ সালে আন্ডার 20 বিশ্বকাপ জিতেছে। খেলা ডেস্কের এই নিবন্ধে চলুন দেখে আসি খেলোয়াড়ী টীম তালিকা ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য স্কোয়াড।

মরক্কো দলের সামগ্রিক তথ্য বিবরণী
| বিবরণ | তথ্য |
|---|---|
| মোট মার্কেট ভ্যালু | €৪৩১.৭৫ মিলিয়ন |
| স্কোয়াড সাইজ | ২৮ জন খেলোয়াড় |
| গড় বয়স | ২৫.৩ বছর |
| ফিফা র্যাঙ্কিং | ৮ম স্থান |
| প্রধান কোচ | মোহাম্মদ ওয়াহবি |
মরক্কো দলের গোলরক্ষকের তালিকা
মরক্কো জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান গোলরক্ষক হলেন ইয়াসিন বুনু , যিনি বোনো নামেই বেশি পরিচিত। ১৯৯১ সালের ৫ এপ্রিল কানাডার মন্ট্রিয়ালে জন্মগ্রহণকারী এই ১.৯৫ মিটার উচ্চতার গোলরক্ষক বর্তমানে সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল হিলালের হয়ে খেলেন এবং মরক্কো জাতীয় দলের ভাইস-ক্যাপ্টেন।
২০২২ ফিফা বিশ্বকাপে তিনি মরক্কোকে ঐতিহাসিক সাফল্য এনে দিয়েছিলেন। স্পেনের বিপক্ষে রাউন্ড অব ১৬-এ পেনাল্টি শুটআউটে দুটি পেনাল্টি সেভ করে দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছিলেন, যেখানে পর্তুগালকে হারিয়ে মরক্কো প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছায়। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ক্লিন শিট (চারটি) রাখার কৃতিত্বও তার। বোনো তার হাস্যোজ্জ্বল মনোভাব, দ্রুত রিফ্লেক্স এবং দুর্দান্ত সেভিংয়ের জন্য বিখ্যাত। তিনি মরক্কোর হয়ে ৮০-এর বেশি ম্যাচ খেলেছেন এবং আফ্রিকান ফুটবলে অন্যতম সেরা গোলরক্ষক হিসেবে বিবেচিত। বর্তমানে ২০২৬ সালে তার সাথে এল মেহদি বেনাবিদ ও এল মেহদি আল হারারের মতো ব্যাকআপ গোলরক্ষক রয়েছেন, কিন্তু বোনো এখনো দলের নির্ভরযোগ্য প্রথম পছন্দ। তার নৈপুণ্য দলটিকে বিশ্ব মঞ্চে শক্তিশালী করে তুলেছে।
| নাম | পজিশন | বয়স | ক্লাব | বাজার মূল্য |
|---|---|---|---|---|
| ইয়াসিন বুনু | গোলরক্ষক | ৩৪ | আল-হিলাল | €৩.৫০ মিলিয়ন |
| এল মেহদি বেনাবিদ | গোলরক্ষক | ২৮ | উইদাদ কাসাব্লাঙ্কা | €১.৫০ মিলিয়ন |
| এল মেহদি আল হাররার | গোলরক্ষক | ২৫ | রাজা ক্লাব | €০.৭৫ মিলিয়ন |
মরক্কো দলের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় (ডিফেন্ডার)
মরক্কো জাতীয় ফুটবল দলের রক্ষণভাগ বিশ্ব ফুটবলে অন্যতম শক্তিশালী ও সুগঠিত অংশ হিসেবে পরিচিত। ২০২২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ওঠার পেছনে তাদের রক্ষণভাগের অসাধারণ শৃঙ্খলা ও কম গোল খাওয়ার রেকর্ড ছিল অন্যতম প্রধান কারণ। বর্তমানে (২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি পর্বে) এই রক্ষণভাগে অভিজ্ঞতা ও যুবশক্তির চমৎকার সমন্বয় দেখা যায়।
ডান প্রান্তে আশরাফ হাকিমি দলের অধিনায়ক ও তারকা, যার আক্রমণাত্মক ওভারল্যাপিং ও গতি রক্ষণকে আরও গতিশীল করে। বাম প্রান্তে নুসাইর মাজরাউই নিয়মিত অবদান রাখেন, পাশাপাশি সেন্টার-ব্যাক লাইনে নায়েফ আগুয়ের্দ , চাদি রিয়াদ, ইসা ডিওপ এবং তরুণ আব্দেলহামিদ আইত বৌদলাল এর মতো খেলোয়াড়রা গভীরতা যোগ করেন। চলুন দেখে আসি মরক্কো দলের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের তালিকা।
| নাম | পজিশন | বয়স | ক্লাব | বাজার মূল্য |
|---|---|---|---|---|
| শাদি রিয়াদ | সেন্টার-ব্যাক | ২২ | ক্রিস্টাল প্যালেস | €১২.০০ মিলিয়ন |
| ইসা দিয়োপ | সেন্টার-ব্যাক | ২৯ | ফুলহ্যাম | €১০.০০ মিলিয়ন |
| আবদেলহামিদ আইত বউদলাল | সেন্টার-ব্যাক | ১৯ | রেন | €১০.০০ মিলিয়ন |
| রেদোয়ান হালহাল | সেন্টার-ব্যাক | ২৩ | মেখেলেন | €৩.০০ মিলিয়ন |
| ইসমাইল বাওফ | সেন্টার-ব্যাক | ১৯ | কাম্বুর | €২.৫০ মিলিয়ন |
| সুফিয়ান এল কারুয়ানি | লেফট-ব্যাক | ২৫ | উট্রেখট | €১৫.০০ মিলিয়ন |
| আনাস সালাহ-এদ্দিন | লেফট-ব্যাক | ২৪ | পিএসভি | €১২.০০ মিলিয়ন |
| আশরাফ হাকিমি | রাইট-ব্যাক | ২৭ | পিএসজি | €৮০.০০ মিলিয়ন |
| নুসাইর মাজারাউই | রাইট-ব্যাক | ২৮ | ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড | €২০.০০ মিলিয়ন |
| জাকারিয়া এল ওয়াহদি | রাইট-ব্যাক | ২৪ | জেঙ্ক | €১৫.০০ মিলিয়ন |
মরক্কো দলের মধ্যমাঠের খেলোয়াড় (মিডফিল্ডার)
মরক্কো জাতীয় ফুটবল দলের মধ্যমাঠ (midfield) বর্তমানে বিশ্ব ফুটবলে অন্যতম শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ অংশ। ২০২২ বিশ্বকাপে চতুর্থ স্থান অর্জনের পর থেকে এই বিভাগে অভিজ্ঞতা ও যুব প্রতিভার চমৎকার সমন্বয় ঘটেছে। প্রধানত সোফিয়ান আমরাবাত দলের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে শিল্ডের কাজ করেন তাঁর শক্তিশালী ট্যাকল, বল রিকভারি ও কভারিং সক্ষমতা দলের রক্ষণকে সুরক্ষিত রাখে। তাঁর সাথে আজেদিন ওউনাহি এবং নিল এল আয়নাওই কেন্দ্রীয় মধ্যমাঠে ব্যালেন্স ও পাসিং নেটওয়ার্ক তৈরি করেন।
আক্রমণাত্মক মধ্যমাঠে বিলাল এল খান্নোস সৃজনশীলতার চাবিকাঠি, যিনি দারুণ ভিশন ও ড্রিবলিং দিয়ে আক্রমণ গড়ে তোলেন। এছাড়া ইসমাইল সাইবারি, ওসামা তারঘালি এবং ব্রাহিম দিয়াজের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা মধ্যমাঠকে গতিশীল ও বহুমুখী করে তোলে। এই মধ্যমাঠের গভীরতা ও বৈচিত্র্য মরক্কোকে ২০২৬ বিশ্বকাপে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলেছে, যেখানে তারা একই সাথে রক্ষণাত্মক দৃঢ়তা ও আক্রমণাত্মক সৃজনশীলতা দেখাতে পারে। যুব প্রতিভাদের উত্থানের কারণে দলটির মধ্যমাঠ ভবিষ্যতেও উজ্জ্বল বলে মনে করা হয়। নিচে মরক্কো দলের মধ্যমাঠের খেলোয়াড় তালিকা দেওয়া হল।
| নাম | পজিশন | বয়স | ক্লাব | বাজার মূল্য |
|---|---|---|---|---|
| ওসামা তারঘাল্লিন | রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার | ২৩ | ফেইনুর্ড | €১২.০০ মিলিয়ন |
| মোহামেদ রাবি হ্রিমাত | রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার | ৩১ | এএস এফএআর রাবাত | €১.৫০ মিলিয়ন |
| নিল এল আইনাউই | কেন্দ্রীয় মিডফিল্ডার | ২৪ | এএস রোমা | €২০.০০ মিলিয়ন |
| আজেদ্দিন উনাহি | কেন্দ্রীয় মিডফিল্ডার | ২৫ | জিরোনা | €১০.০০ মিলিয়ন |
| সামির এল মোরাবেত | কেন্দ্রীয় মিডফিল্ডার | ২০ | স্ট্রাসবুর্গ | €৮.০০ মিলিয়ন |
| বিলাল এল খান্নুস | আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার | ২১ | স্টুটগার্ট | €৩২.০০ মিলিয়ন |
| ইসমাইল সাইবারি | আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার | ২৫ | পিএসভি | €৩২.০০ মিলিয়ন |
মরক্কো দলের আক্রমণভাগের খেলোয়াড় (ফরোয়ার্ড / অ্যাটাকার)
মরক্কো জাতীয় ফুটবল দলের আক্রমণভাগ বর্তমানে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ। স্ট্রাইকার হিসেবে ইউসেফ এন নেসিরি এবং আয়ুব এল কাবি দলকে প্রধান ফায়ারপাওয়ার যোগান দেন এন নেসিরি তার উচ্চতা, হেডিং দক্ষতা ও ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়ের জন্য বিখ্যাত, যেমন ২০২২ বিশ্বকাপে পর্তুগালের বিপক্ষে সেই অবিস্মরণীয় গোল।
উইং এবং অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে রয়েছে ব্রাহিম দিয়াজ, যিনি তার ড্রিবলিং, ক্রিয়েটিভিটি ও গোলের হুমকি দিয়ে দলের আক্রমণকে গতিশীল করেন। এছাড়া আবদে এজ্জালজৌলি, আমিন আদলি, সৌফিয়ানে রাহিমি, ইলিয়াস আখুমাশ এবং উদীয়মান তরুণ চেমসদিনে তালবির মতো খেলোয়াড়রা গতি, পেস ও উইং অ্যাটাকে দারুণ ভূমিকা রাখেন।
| নাম | পজিশন | বয়স | ক্লাব | বাজার মূল্য |
|---|---|---|---|---|
| আব্দে এজ্জালজুলি | বাম উইঙ্গার | ২৪ | রিয়াল বেটিস | €৩০.০০ মিলিয়ন |
| আমিন আদলি | বাম উইঙ্গার | ২৫ | বোর্নমাউথ | €২০.০০ মিলিয়ন |
| সুফিয়ান রহিমি | বাম উইঙ্গার | ২৯ | আল-আইন | €৬.০০ মিলিয়ন |
| ব্রাহিম দিয়াজ | ডান উইঙ্গার | ২৬ | রিয়াল মাদ্রিদ | €৩৫.০০ মিলিয়ন |
| শেমসদিন তালবি | ডান উইঙ্গার | ২০ | সান্ডারল্যান্ড | €২৫.০০ মিলিয়ন |
| গেসিম ইয়াসিন | ডান উইঙ্গার | ২০ | স্ট্রাসবুর্গ | €৬.০০ মিলিয়ন |
| আয়ুব এল কাবি | কেন্দ্রীয় ফরোয়ার্ড | ৩২ | অলিম্পিয়াকোস | €৫.০০ মিলিয়ন |
| ইয়াসির জাবিরি | কেন্দ্রীয় ফরোয়ার্ড | ২১ | রেন | €৪.০০ মিলিয়ন |
আরও পড়ুনঃ জার্মানি খেলোয়াড় তালিকা ২০২৬
ফ্র্যাঞ্চাইজি সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন ও উত্তর জেনে নিন
প্রশ্ন: মরক্কো প্রথম কবে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে?
উত্তর: মরক্কো প্রথমবারের মতো ১৯৭০ সালে ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে।
প্রশ্ন: ২০৩০ বিশ্বকাপ কোথায় অনুষ্ঠিত হবে?
উত্তর: ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপ যৌথভাবে মরক্কো, স্পেন এবং পর্তুগালে অনুষ্ঠিত হবে।
প্রশ্ন: ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে মরক্কোর বর্তমান অবস্থান কত?
উত্তর: ২০২৬ সালের জানুয়ারির তথ্য অনুযায়ী, ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে মরক্কোর বর্তমান অবস্থান ৮ম।
প্রশ্ন: বিশ্বকাপে মরক্কোর সেরা সাফল্য কী?
উত্তর: মরক্কোর সেরা সাফল্য ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে পৌঁছানো।
প্রিয় পাঠক,
খেলা ডেস্ক ওয়েবসাইট ভিজিট করার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনার মূল্যবান সময় দিয়ে আমাদের কনটেন্ট পড়ার মাধ্যমে আপনি আমাদের অনুপ্রাণিত করছেন আরও ভালো ও তথ্যবহুল ক্রীড়া সংবাদ উপস্থাপন করতে। আমরা সবসময় চেষ্টা করি সর্বশেষ আপডেট, নির্ভরযোগ্য তথ্য এবং আকর্ষণীয় বিশ্লেষণ আপনার সামনে তুলে ধরতে। আপনার সমর্থন ও ভালোবাসাই আমাদের এগিয়ে যাওয়ার শক্তি। ভবিষ্যতেও আমাদের সাথে থাকবেন এবং খেলাধুলার সব খবর জানতে নিয়মিত ভিজিট করবেন এই প্রত্যাশা রইলো।


