ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দল বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী এবং সফল দল। তারা এ পর্যন্ত দুইবার ফিফা বিশ্বকাপ (১৯৯৮ ও ২০১৮) এবং দুইবার উয়েফা ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ (১৯৮৪ ও ২০০০) জয় করেছে। ১৯০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দলটি ‘লে ব্লুজ’ নামে পরিচিত এবং বর্তমানে দিদিয়ের দেশম দলটির কোচের দায়িত্ব পালন করছেন। ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসে জিনেদিন জিদান, মিশেল প্লাতিনি এবং সাম্প্রতিক সময়ের কিলিয়ান এমবাপের মতো বিশ্ববিখ্যাত খেলোয়াড়দের অবদান অনস্বীকার্য। দলটি তাদের আক্রমণাত্মক খেলার ধরন এবং শক্তিশালী প্রতি আক্রমণের জন্য পরিচিত।
এছাড়া, দলটি প্রথম ইউরোপীয় দল হিসেবে ফিফা ও উয়েফার সবকটি প্রধান শিরোপা জয়ের অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করেছে। তাদের বৈচিত্র্যময় সমাজকে প্রতিনিধিত্বকারী এই দলটি ফুটবল বিশ্বে একটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। খেলা ডেস্কের এই নিবন্ধে চলুন দেখে আসি খেলোয়াড়ী টীম তালিকা ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য স্কোয়াড।

ফ্রান্স দলের সামগ্রিক তথ্য বিবরণী
| বিবরণ | তথ্য |
| মোট মার্কেট ভ্যালু | ১.৪১ বিলিয়ন ইউরো |
| স্কোয়াড সাইজ | ২৫ জন খেলোয়াড় |
| গড় বয়স | ৪২.৫ বছর |
| ফিফা র্যাঙ্কিং | ৩য় স্থান |
| প্রধান কোচ | দিদিয়ে দেশম |
ফ্রান্স গোলরক্ষকের তালিকা
ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দলের বর্তমান গোলরক্ষক হলেন মাইক ম্যাগনান। তিনি এসি মিলানের অধিনায়ক এবং বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষকদের একজন হিসেবে বিবেচিত। ১৯৯৫ সালে ফরাসি গায়ানায় জন্মগ্রহণকারী এই ৩০ বছর বয়সী গোলরক্ষক দারুণ রিফ্লেক্স, অসাধারণ পজিশনিং, শট স্টপিং ক্ষমতা এবং পায়ে বল খেলার দক্ষতার জন্য বিখ্যাত। হুগো লরিস অবসর নেওয়ার পর থেকে তিনি ফ্রান্সের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক হয়ে উঠেছেন এবং ২০২৪ ইউরোসহ সাম্প্রতিক বড় টুর্নামেন্টগুলোতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন।
২০২৬ বিশ্বকাপের আগে তাকে ফ্রান্সের নম্বর ওয়ান গোলরক্ষক হিসেবে অপরিহার্য মনে করা হচ্ছে। তার পেছনে লুকাস শেভালিয়ে এবং ব্রিস সাম্বার মতো প্রতিভাবান গোলরক্ষকরা ব্যাকআপ হিসেবে রয়েছেন, কিন্তু ম্যাগনানের ধারাবাহিকতা ও লিডারশিপ দলের গোলপোস্টকে অত্যন্ত নিরাপদ রাখছে। চলুন দেখে আসি ফ্রান্সের গোলরক্ষকের তালিকায় কে কে রয়েছে ও তাঁদের জার্সি, ক্লাব এবং মার্কেট ভ্যালু।
| জার্সি | খেলোয়াড় | পজিশন | বয়স | ক্লাব | মার্কেট ভ্যালু |
|---|---|---|---|---|---|
| ২৩ | লুকাস শেভালিয়ে | গোলকিপার | ২৪ | প্যারিস সাঁ-জার্মাঁ (PSG) | €৩৫ মিলিয়ন ইউরো |
| ১৬ | মাইক মেইনান | গোলকিপার | ৩০ | এসি মিলান | €২৫ মিলিয়ন ইউরো |
| ১ | ব্রিস সাম্বা | গোলকিপার | ৩১ | স্তাদ রেনেস (Rennes) | €১০ মিলিয়ন ইউরো |
ফ্রান্স রক্ষণভাগের খেলোয়াড় (ডিফেন্ডার)
ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দলের বর্তমান রক্ষণভাগ বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী এবং নির্ভরযোগ্য একটি অংশ হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে দিদিয়ের দেশমের অধীনে ফরাসি রক্ষণভাগের মূল স্তম্ভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আর্সেনালের উইলিয়াম সালিবা, যাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা সেন্টার-ব্যাক হিসেবে গণ্য করা হয়। সালিবার সাথে রক্ষণভাগ সামলাতে লিভারপুলের ইব্রাহিমা কোনাতে এবং বায়ার্ন মিউনিখের দাইও উপামেকানো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। লেফট-ব্যাক পজিশনে থিও হার্নান্দেজ এবং রাইট-ব্যাকে জুলেস কুন্দে দলের রক্ষণকে আরও দুর্ভেদ্য করে তুলেছেন।
এছাড়াও লুকাস হার্নান্দেজ, লুকাস দিনিয়ে এবং মালো গুস্তোর মতো অভিজ্ঞ ও প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা দলের গভীরতা বৃদ্ধি করেছেন। ফ্রান্সের এই রক্ষণভাগ প্রতিপক্ষকে আটকাতে ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বেও তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে সাহায্য করছে। নিচে ফ্রান্সের রক্ষণভাগের (ডিফেন্ডার) খেলোয়াড় তালিকা দেখুন।
| জার্সি | খেলোয়াড় | পজিশন | বয়স | ক্লাব | মার্কেট ভ্যালু |
|---|---|---|---|---|---|
| ১৭ | উইলিয়াম সালিবা | সেন্টার-ব্যাক | ২৪ | আর্সেনাল | €৯০মিলিয়ন ইউরো |
| ৪ | দায়োত উপামেকানো | সেন্টার-ব্যাক | ২৭ | বায়ার্ন মিউনিখ | €৭০ মিলিয়ন ইউরো |
| ১৫ | ইব্রাহিমা কোনাতে | সেন্টার-ব্যাক | ২৬ | লিভারপুল | €৫০ মিলিয়ন ইউরো |
| ২২ | থিও হার্নান্দেজ | লেফট-ব্যাক | ২৮ | আল-হিলাল (পূর্বে এসি মিলান) | €২৮মিলিয়ন ইউরো |
| ২১ | লুকাস হার্নান্দেজ | লেফট-ব্যাক | ৩০ | প্যারিস সাঁ-জার্মাঁ | €২০ মিলিয়ন ইউরো |
| ৩ | লুকাস দিগনে | লেফট-ব্যাক | ৩২ | অ্যাস্টন ভিলা | €৮ মিলিয়ন ইউরো |
| ৫ | জুলস কুন্দে | রাইট-ব্যাক | ২৭ | বার্সেলোনা | €৬৫ মিলিয়ন ইউরো |
| ২ | মালো গুস্তো | রাইট-ব্যাক | ২২ | চেলসি | €৩৫ মিলিয়ন ইউরো |
ফ্রান্স মধ্যমাঠের খেলোয়াড় (মিডফিল্ডার)
ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দলের মধ্যমাঠের খেলোয়াড়রা (মিডফিল্ডার) দলটির কৌশল ও ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই পজিশনে সাধারণত আক্রমণ ও রক্ষণ দুই দিকই সমানভাবে সামলাতে হয়। দলের মিডফিল্ডে বহু বিশ্বমানের খেলোয়াড় খেলেছেন, যেমন এডুয়ার্দো কামাভিঙ্গা ও অরেলিয়াঁ তচুয়ামেনি যারা ডিফেন্সিভ-বক্স-টু-বক্স ভারসাম্য দেন। ওয়ারেন জায়ার-এমেরি মাত্র ২০ বছরে অসাধারণ পরিপক্কতা দেখিয়েছে। মানু কোন, খেফ্রেন থুরাম, মাইকেল ওলিস, রায়ান চের্কি এবং মাগনেস আকলিউশরা বহুমুখী অপশন।
দলটির সাফল্যের পেছনে শক্তিশালী মিডফিল্ড বড় ভূমিকা রেখেছে, যা ২০১৮ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ২০১৮ জয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যায়। দক্ষতা, গতি এবং কৌশলগত বুদ্ধিমত্তার কারণে ফ্রান্সের মিডফিল্ডাররা আন্তর্জাতিক ফুটবলে অন্যতম সেরা হিসেবে বিবেচিত।
| জার্সি | খেলোয়াড় | পজিশন | বয়স | ক্লাব | মার্কেট ভ্যালু |
|---|---|---|---|---|---|
| – | এন’গোলো কান্তে | ডিফেনসিভ মিডফিল্ড | ৩৪ | ফেনারবাখচে | €৪.৫০ মিলিয়ন ইউরো |
| – | এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা | সেন্ট্রাল মিডফিল্ড | ২৩ | রিয়াল মাদ্রিদ | €৫০ মিলিয়ন ইউরো |
| ৮ | মানু কোনো | সেন্ট্রাল মিডফিল্ড | ২৪ | এএস রোমা | €৫০ মিলিয়ন ইউরো |
| ১৮ | ওয়ারেন জাইর-এমেরি | সেন্ট্রাল মিডফিল্ড | ২০ | প্যারিস সাঁ-জার্মাঁ | €৫০ মিলিয়ন ইউরো |
| – | খেফরেন থুরাম | সেন্ট্রাল মিডফিল্ড | ২৪ | জুভেন্টাস | €৪০ মিলিয়ন ইউরো |
| – | রায়ান শেরকি | অ্যাটাকিং মিডফিল্ড | ২২ | ম্যানচেস্টার সিটি | €৬৫ মিলিয়ন ইউরো |
ফ্রান্স আক্রমণভাগের খেলোয়াড় (ফরোয়ার্ড / অ্যাটাকার)
ফ্রান্স জাতীয় দলের আক্রমণভাগ (ফরোয়ার্ড/অ্যাটাকার) বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর এবং গভীরতাপূর্ণ লাইনআপগুলোর একটি। বর্তমানে (মার্চ ২০২৬) প্রধান আক্রমণকারীরা হলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে দলের অধিনায়ক, বিশ্বের সেরা স্ট্রাইকার এবং গোল মেশিন। তার সঙ্গে উসমানে দেম্বেলে উইঙ্গে অসাধারণ গতি ও ড্রিবলিং দেন।
দিদিয়ের দেশম্পের অধীনে এই আক্রমণভাগ গতি, দক্ষতা, গোল স্কোরিং এবং ক্রিয়েটিভিটির অসাধারণ মিশ্রণে ২০২৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার করে তুলেছে। এমবাপ্পে-দেম্বেলে জুটি দলের মূল অস্ত্র। চলুন দেকে আসি ফ্রান্সের আক্রমণভাগের খেলোয়াড় (ফরোয়ার্ড / অ্যাটাকার) তালিকা।
| জার্সি | খেলোয়াড় | পজিশন | বয়স | ক্লাব | মার্কেট ভ্যালু |
|---|---|---|---|---|---|
| ২০ | ব্র্যাডলি বারকোলা | লেফট উইঙ্গার | ২৩ | প্যারিস সাঁ-জার্মাঁ | €৭০ মিলিয়ন ইউরো |
| ১১ | মাইকেল ওলিসে | রাইট উইঙ্গার | ২৪ | বায়ার্ন মিউনিখ | €১৩০ মিলিয়ন ইউরো |
| ১২ | মাগনেস আকলিউশ | রাইট উইঙ্গার | ২৪ | এএস মোনাকো | €৪৫ মিলিয়ন ইউরো |
| ২০ | ফ্লোরিয়ান থোভাঁ | রাইট উইঙ্গার | ৩৩ | আরসি লঁস | €৫ মিলিয়ন ইউরো |
| ১০ | কিলিয়ান এমবাপ্পে | সেন্ট্র-ফরোয়ার্ড | ২৭ | রিয়াল মাদ্রিদ | €২০০ মিলিয়ন ইউরো |
| ৯ | হুগো একিতিকে | সেন্ট্র-ফরোয়ার্ড | ২৩ | লিভারপুল | €৯০ মিলিয়ন ইউরো |
| ১৩ | জাঁ-ফিলিপ মাতেতা | সেন্ট্র-ফরোয়ার্ড | ২৮ | ক্রিস্টাল প্যালেস | €৩৫ মিলিয়ন ইউরো |
| ১৮ | ক্রিস্টোফার এনকুনকু | সেন্ট্র-ফরোয়ার্ড | ২৮ | এসি মিলান | €৩২ মিলিয়ন ইউরো |
আরও পড়ুনঃ ব্রাজিল খেলোয়াড় তালিকা ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য স্কোয়াড
ফ্র্যাঞ্চাইজি সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন ও উত্তর জেনে নিন
প্রশ্ন: দলটি কতবার ফিফা বিশ্বকাপ জিতেছে?
উত্তর: এ পর্যন্ত মোট ২ বার ফিফা বিশ্বকাপ জিতেছে প্রথমবার ১৯৯৮ সালে নিজেদের দেশে এবং দ্বিতীয়বার ২০১৮ সালে রাশিয়ার মাটিতে।
প্রশ্ন: ফ্রান্সের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড কার দখলে?
উত্তর: ফ্রান্সের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি অলিভিয়ের জিরু-এর দখলে (৫৭টি গোল)। তবে কিলিয়ান এমবাপে দ্রুত এই রেকর্ডের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।
প্রশ্ন: দলটি কি কখনও উয়েফা ইউরো জিতেছে?
উত্তর: হ্যাঁ, ২ বার উয়েফা ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ (ইউরো) জিতেছে ১৯৮৪ সালে (মিশেল প্লাতিনির নেতৃত্বে) এবং ২০০০ সালে।
প্রশ্ন: কোন মাঠে তাদের হোম ম্যাচগুলো খেলে?
উত্তর: ফ্রান্সের জাতীয় স্টেডিয়াম হলো প্যারিসের উপকণ্ঠে অবস্থিত স্টেড ডি ফ্রান্স।



