বেলজিয়াম জাতীয় ফুটবল দলকে সাধারণত রেড ডেভিলস বলা হয়, ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী এবং ঐতিহ্যবাহী দলগুলোর একটি। ১৯০৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে এই দলটি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সক্রিয় রয়েছে। তারা ১৪ বারেরও বেশি ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে এবং সবচেয়ে সফল অর্জন হলো ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অধিকার। এছাড়া ১৯৮০ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে তারা রানার্স-আপ হয়েছিল।
২০১০-এর দশকে বেলজিয়ামের গোল্ডেন জেনারেশন (যেমন কেভিন ডি ব্রুইনা, এডেন হ্যাজার্ড, রোমেলু লুকাকু, টিবো কোর্তোয়া প্রমুখ) দলটিকে বিশ্বের শীর্ষে নিয়ে যায়। তারা একাধিকবার ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান দখল করেছিল, যদিও এখনো কোনো বড় শিরোপা (বিশ্বকাপ বা ইউরো) জিততে পারেনি। বর্তমানে (২০২৬ সালের শুরুর দিকে) দলটি ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে প্রায় ৮-৯ নম্বরে অবস্থান করছে এবং রুডি গার্সিয়ার অধীনে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। খেলা ডেস্কের এই নিবন্ধে চলুন দেখে আসি খেলোয়াড়ী টীম তালিকা ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য স্কোয়াড।

বেলজিয়াম দলের সামগ্রিক তথ্য বিবরণী
| বিবরণ | তথ্য |
|---|---|
| মোট মার্কেট ভ্যালু | €৫৭৫.২০ মিলিয়ন |
| স্কোয়াড সাইজ | ২৮ জন খেলোয়াড় |
| গড় বয়স | ২৭.১ বছর |
| ফিফা র্যাঙ্কিং | ৯ম স্থান |
| প্রধান কোচ | রুডি গার্সিয়া |
বেলজিয়াম দলের গোলরক্ষকের তালিকা
বেলজিয়াম জাতীয় ফুটবল দলের গোলরক্ষক বিভাগ বর্তমানে বেশ প্রতিযোগিতামূলক এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত। দীর্ঘদিন ধরে থিবো কুর্তোয়া দলের প্রধান গোলরক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন, যিনি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলেন এবং বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষকদের একজন হিসেবে পরিচিত। তার অসাধারণ রিফ্লেক্স, উচ্চতা এবং পজিশনিং দক্ষতা বেলজিয়ামের রক্ষণভাগকে শক্তিশালী করে।
তবে ২০২৬ সালের দিকে কুর্তোয়ার ইনজুরি বা অন্যান্য কারণে নতুন প্রজন্মের গোলরক্ষকরা সুযোগ পাচ্ছেন। সেনে ল্যামেন্স ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে খেলছেন এবং জাতীয় দলে নিয়মিত সুযোগ পাচ্ছেন, যিনি ভবিষ্যতে প্রথম পছন্দ হয়ে উঠতে পারেন। এছাড়া মার্টেন ভ্যান্ডেভোর্ট আরবি লাইপজিগে খেলেন এবং ম্যাটজ সেলস নটিংহ্যাম ফরেস্টের হয়ে অভিজ্ঞতা যোগ করছেন। চলুন দেখে আসি বেলজিয়ামের গোলরক্ষকের তালিকা।
| জার্সি নং | নাম | পজিশন | বয়স | ক্লাব | বাজার মূল্য |
|---|---|---|---|---|---|
| ১ | সেনে ল্যামেন্স | গোলরক্ষক | ২৩ | ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড | €৩০.০০ মিলিয়ন |
| – | মার্টেন ভান্দেভুর্ডট | গোলরক্ষক | ২৪ | আরবি লাইপজিগ | €৮.০০ মিলিয়ন |
| ১৩ | ম্যাটস সেলস | গোলরক্ষক | ৩৪ | নটিংহাম ফরেস্ট | €৪.০০ মিলিয়ন |
বেলজিয়াম দলের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় (ডিফেন্ডার)
বেলজিয়াম জাতীয় ফুটবল দলের রক্ষণভাগ বর্তমানে অভিজ্ঞতা ও যুবশক্তির এক চমৎকার মিশ্রণ। কেন্দ্রীয় রক্ষণে জেনো ডেবাস্ট ও আর্থার থিয়েট দারুণভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডেবাস্টের বল বিতরণ ও শারীরিক দক্ষতা এবং থিয়েটের প্রগতিশীল পাস ও ড্রিবলিং রক্ষণকে শক্তিশালী করে।
পাশাপাশি ব্র্যান্ডন মেচেলে, কোনি ডি উইন্টার এবং ম্যাক্সিম ডি কুইপার এর মতো খেলোয়াড়রা গভীরতা যোগ করেন। পূর্ণব্যাক হিসেবে টিমোথি কাস্তানে ও থমাস মুনিয়ের অভিজ্ঞতা দিয়ে আক্রমণাত্মক সাপোর্ট দেন। সামগ্রিকভাবে বেলজিয়ামের রক্ষণভাগ ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে বেশ ভারসাম্যপূর্ণ, যেখানে বল দখল, দ্রুত ট্রানজিশন ও এয়ারিয়াল লড়াইয়ে তারা শক্তিশালী। তবে পুরোনো খেলোয়াড়দের বয়স বাড়ার কারণে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের উত্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিচে বেলজিয়াম দলের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় (ডিফেন্ডার) তালিকা দেখুন।
| জার্সি নং | নাম | পজিশন | বয়স | ক্লাব | বাজার মূল্য |
|---|---|---|---|---|---|
| – | জেনো ডেবাস্ট | সেন্টার-ব্যাক | ২২ | স্পোর্টিং সিপি | €৩০.০০ মিলিয়ন |
| ৩ | আর্থার থিয়েট | সেন্টার-ব্যাক | ২৫ | আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট | €২০.০০ মিলিয়ন |
| ১৬ | কোনি ডে উইন্টার | সেন্টার-ব্যাক | ২৩ | এসি মিলান | €২০.০০ মিলিয়ন |
| – | নাথান এনগয় | সেন্টার-ব্যাক | ২২ | লিল | €১০.০০ মিলিয়ন |
| ৪ | ব্র্যান্ডন মেখেলে | সেন্টার-ব্যাক | ৩৩ | ক্লাব ব্রুজ | €৩.০০ মিলিয়ন |
| ৫ | ম্যাক্সিম ডে কুইপার | লেফট-ব্যাক | ২৫ | ব্রাইটন | €২২.০০ মিলিয়ন |
| ২ | জোয়াকিন সেয়স | লেফট-ব্যাক | ২০ | ক্লাব ব্রুজ | €১৭.০০ মিলিয়ন |
| ২১ | টিমোথি কাস্তানে | রাইট-ব্যাক | ৩০ | ফুলহ্যাম | €১০.০০ মিলিয়ন |
| ১৫ | থমাস মুনিয়ে | রাইট-ব্যাক | ৩৪ | লিল | €১.৮০ মিলিয়ন |
বেলজিয়াম দলের মধ্যমাঠের খেলোয়াড় (মিডফিল্ডার)
বেলজিয়াম ফুটবল দলের মধ্যমাঠ গত এক দশকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ও সৃজনশীল মিডফিল্ড হিসেবে পরিচিত। কেভিন ডি ব্রুইনার মতো বিশ্বমানের প্লে মেকার, ইউরি টিলেমানসের দূরপাল্লার শট ও পাসিং ক্ষমতা, এবং অ্যাক্সেল উইটসেলের অভিজ্ঞতা দলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সাহায্য করে। অভিজ্ঞতার সাথে তরুণদের মিশেলে গড়া এই মিডফিল্ড রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে চমৎকার ভারসাম্য বজায় রাখে। এই দলের মাঝমাঠ যেকোনো প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে চাপে ফেলার ক্ষমতা রাখে, যা বেলজিয়ামের সোনালী প্রজন্মের অন্যতম প্রধান শক্তি।
এছাড়া আমাদু ওনানার মতো তরুণ খেলোয়াড়রা রক্ষণাত্মক দায়িত্ব পালন করে দলকে ভারসাম্য প্রদান করছেন। সব মিলিয়ে বেলজিয়ামের মধ্যমাঠ অভিজ্ঞতা, সৃজনশীলতা ও শক্তির এক চমৎকার সমন্বয়, যা দলকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করে তোলে।
| জার্সি নং | নাম | পজিশন | বয়স | ক্লাব | বাজার মূল্য |
|---|---|---|---|---|---|
| – | আমাদু ওনানা | রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার | ২৪ | অ্যাস্টন ভিলা | €৪৫.০০ মিলিয়ন |
| ২৩ | নিকোলাস রাসকিন | রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার | ২৫ | রেঞ্জার্স | €১২.০০ মিলিয়ন |
| ৬ | অ্যাক্সেল উইটসেল | রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার | ৩৭ | জিরোনা | €১.৪০ মিলিয়ন |
| ৮ | ইউরি টিলেমানস | কেন্দ্রীয় মিডফিল্ডার | ২৮ | অ্যাস্টন ভিলা | €৩৫.০০ মিলিয়ন |
| – | নাথান ডে ক্যাট | কেন্দ্রীয় মিডফিল্ডার | ১৭ | অ্যান্ডারলেখট | €২৫.০০ মিলিয়ন |
| ২২ | অ্যালেক্সিস সেলেমেকার্স | রাইট মিডফিল্ড | ২৬ | এসি মিলান | €২৫.০০ মিলিয়ন |
| ১৭ | চার্লস ডে কেটেলার | আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার | ২৫ | আতালান্তা | €৩৫.০০ মিলিয়ন |
| – | কেভিন ডে ব্রুইনে | আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার | ৩৪ | নাপোলি | €১৫.০০ মিলিয়ন |
| ২০ | হান্স ভানাকেন | আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার | ৩৩ | ক্লাব ব্রুজ | €৬.০০ মিলিয়ন |
বেলজিয়াম দলের আক্রমণভাগের খেলোয়াড় (ফরোয়ার্ড / অ্যাটাকার)
বেলজিয়াম জাতীয় ফুটবল দলের আক্রমণভাগ বর্তমানে বেশ শক্তিশালী এবং বৈচিত্র্যময়। কেভিন ডি ব্রুইনের মতো অভিজ্ঞ এবং সৃজনশীল অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার দলের আক্রমণকে নিয়ন্ত্রণ করেন, যিনি পাসিং, ভিশন এবং গোলের সুযোগ তৈরিতে অসাধারণ। সামনে রোমেলু লুকাকু বেলজিয়ামের সর্বকালের সেরা গোলদাতা শক্তিশালী টার্গেট ম্যান হিসেবে বক্সের ভিতরে ভয়ঙ্কর, যেখানে লোয়িস ওপেন্ডা তার গতি ও দ্রুত আক্রমণের মাধ্যমে বিকল্প হিসেবে দারুণ ভূমিকা রাখেন।
উইংয়ে জেরেমি ডোকুর ড্রিবলিং, গতি ও অপ্রত্যাশিততা প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ছিন্নভিন্ন করে, আর লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের বহুমুখীতা ও অভিজ্ঞতা (আর্সেনালের হয়ে খেলার সুবাদে) আক্রমণকে আরও গতিশীল করে। চার্লস ডি কেতেলেয়ার অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে স্মার্ট মুভমেন্ট ও ফিনিশিংয়ে দক্ষ, যেখানে অ্যালেক্সিস সালেমেকার্স ও ডোডি লুকেবাকিওর মতো খেলোয়াড়রা গভীরতা যোগ করে। সামগ্রিকভাবে, বেলজিয়ামের আক্রমণভাগ গতি, শক্তি, কৌশল ও অভিজ্ঞতার চমৎকার সমন্বয়ে গড়া, যা ২০২৬ বিশ্বকাপে তাদেরকে বিপজ্জনক করে তুলেছে। নিচে দলের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের তালিকা দেওয়া হল।
| জার্সি নং | নাম | পজিশন | বয়স | ক্লাব | বাজার মূল্য |
|---|---|---|---|---|---|
| ১১ | জেরেমি ডোকু | বাম উইঙ্গার | ২৩ | ম্যানচেস্টার সিটি | €৬৫.০০ মিলিয়ন |
| – | মিকা গড্টস | বাম উইঙ্গার | ২০ | আয়াক্স | €২৫.০০ মিলিয়ন |
| ১০ | লিয়ান্দ্রো ট্রসার্ড | বাম উইঙ্গার | ৩১ | আর্সেনাল | €২০.০০ মিলিয়ন |
| ১৪ | ডোদি লুকেবাকিও | ডান উইঙ্গার | ২৮ | বেনফিকা | €২০.০০ মিলিয়ন |
| ৯ | লোয়িস ওপেন্ডা | কেন্দ্রীয় ফরোয়ার্ড | ২৬ | জুভেন্টাস | €৪০.০০ মিলিয়ন |
| – | রোমেলু লুকাকু | কেন্দ্রীয় ফরোয়ার্ড | ৩২ | নাপোলি | €১৫.০০ মিলিয়ন |
| – | লুকাস স্টাসিন | কেন্দ্রীয় ফরোয়ার্ড | ২১ | সেন্ট-এতিয়েন | €১৫.০০ মিলিয়ন |
আরও পড়ুনঃ ইংল্যান্ড খেলোয়াড় তালিকা ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য স্কোয়াড
ফ্র্যাঞ্চাইজি সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন ও উত্তর জেনে নিন
প্রশ্ন: বেলজিয়াম কতবার ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে?
উত্তর: ১৪ বার।
প্রশ্ন: বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের সেরা সাফল্য কী?
উত্তর: ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন।
প্রশ্ন: দলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কারা?
উত্তর: নেদারল্যান্ডস এবং ফ্রান্স ।
প্রশ্ন: বর্তমানে দলের প্রধান কোচ কে?
উত্তর: রুডি গার্সিয়া।
ধন্যবাদ!
প্রিয় পাঠক,
খেলা ডেস্ক ওয়েব সাইটে আপনার মূল্যবান সময় ব্যয় করে ভিজিট করার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আপনার এই ভালোবাসা ও আগ্রহ আমাদেরকে আরও ভালো করে খেলার খবর, বিশ্লেষণ এবং আপডেট তুলে ধরতে অনুপ্রাণিত করে। আশা করি আমাদের সাইট থেকে আপনি সবসময় সঠিক, দ্রুত ও আকর্ষণীয় কনটেন্ট পেয়ে থাকেন। ভবিষ্যতেও আপনার এই সঙ্গ আমাদের সাথে অব্যাহত থাকুক। আবারও অনেক অনেক ধন্যবাদ।
আপনার প্রিয় খেলা ডেস্ক টিম।


