আজ আমরা জানার চেষ্টা করবো ক্রিকেট ইতিহারে দুই কিংবদন্তি বিরাট কোহলি ও শচীন টেন্ডুলকারের মধ্যে কে সেরা ও কার সেঞ্চুরি কয়টি। বিরাট কোহলিকে তাঁর অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যের জন্য “কিং কোহলি” “রান মেশিন” এবং “চেজ মাস্টার” বলা হয়। অন্য দিকে কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার কে “ক্রিকেটের ঈশ্বর” এবং “মাস্টার ব্লাস্টার” নামে ডাকা হয়।
বিরাট কোহলি মোট সেঞ্চুরি কয়টি ও ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান
বিরাট কোহলি ১৮ আগস্ট ২০০৮ সালে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একটি একদিনের আন্তর্জাতিক (ওডিআই) ম্যাচের মধ্য দিয়ে তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু করেন, যখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। ২০১০ সালের ১২ জুন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক (টি২০) অভিষেক এবং ২০১১ সালের ২০ জুন ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর বিপক্ষে আন্তর্জাতিক (টেস্ট) অভিষেক হয়। এর আগে তিনি ২০০৮ সালে ভারতের হয়ে আন্ডার-১৯ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হিসেবে ভারত কে বিশ্বকাপ জেতান। নিচে বিরাট কোহলি সেঞ্চুরি কয়টি ও ক্যারিয়ার পরিসংখ্যানতুলে ধরা হল ।
| ফরম্যাট | ম্যাচ | রান | সর্বোচ্চ স্কোর | গড় | শতক |
|---|---|---|---|---|---|
| টেস্ট | ১২৩ | ৯২৩০ | ২৫৪* | ৪৬.৮৫ | ৩০ |
| ওয়ানডে | ৩০৮ | ১৪৫৫৭ | ১৮৩ | ৫৮.৪৬ | ৫৩ |
| টি-টোয়েন্টি | ১২৫ | ৪১৮৮ | ১২২* | ৪৮.৬৯ | ১ |
| আইপিএল | ২৬৭ | ৮৬৬১ | ১১৩ | ৩৯.৫৪ | ৮ |
শচীন টেন্ডুলকারের মোট সেঞ্চুরি কয়টি ও ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান
শচীন টেন্ডুলকারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় মাত্র ১৬ বছর বয়সে, ১৯৮৯ সালের ১৫ নভেম্বর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে করাচি টেস্টে। যা তাকে ভারতের সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট ক্রিকেটার করে তোলে। ওডিআই অভিষেক হয় ১৯৮৯ সালে ১৮ ডিসেম্বর পাকিস্তানের বিপক্ষে এবং টি২০ অভিষেক হয় ২০০৬ সালের ১ ডিসেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকা বিপক্ষে।তিনি আন্তর্জাতিক ওডিআই থেকে অবসর নেয় ২০১২ সালের ২৩শে ডিসেম্বর। টি২০ ক্রিকেট থেকে অবসর নেয় ২০১৩ সালের মে মাসে। ২০১৩ সালের ১৬ই ডিসেম্বর মুম্বই শহরের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে নিজের ২০০তম টেস্ট ম্যাচে জয়লাভ করে টেস্ট ক্রিকেট থেকেও অবসর গ্রহণ করেন। এই কিংবদন্তি ভারতীয় ক্রিকেটার কে সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয় । তিনি ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০০টি সেঞ্চুরি করা প্রথম ক্রিকেটার। নিচে তার মোট সেঞ্চুরি কয়টি ও ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান সমিকরন তুলে ধরা হল ।
| ফরম্যাট | ম্যাচ | রান | সর্বোচ্চ স্কোর | গড় | শতক |
|---|---|---|---|---|---|
| টেস্ট | ২০০ | ১৫৯২১ | ২৪৮* | ৫৩.৭৮ | ৫১ |
| ওয়ানডে | ৪৬৩ | ১৮৪২৬ | ২০০* | ৪৪.৮৩ | ৪৯ |
| টি-টোয়েন্টি | ১ | ১০ | ১০ | ১০.০০ | ০০ |
| আইপিএল | ৭৮ | ২৩৩৪ | ১০০ | ৩৪.৮৩ | ১ |
যে কারণে বিরাট কোহলি কিংবদন্তি
অতুলনীয় ধারাবাহিকতা ও রেকর্ড: কোহলি ওয়ানডে, টেস্ট এবং টি২০ উভয় ফরম্যাটেই রানের পাহাড় গড়েছেন, ওয়ানডেতে দ্রুততম ৮,০০০ থেকে ১৪,০০০ রান, টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ৪০০০ রান সংগ্রাহক। টেস্ট ও ওয়ানডে উভয় ফরম্যাটে অসংখ্য সেঞ্চুরি ও ডাবল সেঞ্চুরি এবং ফিফটি করেছেন কিং কোহলি। কোহলি আন্তর্জাতিক ওডিআই-তে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক (৫৩টি) ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) এর শীর্ষ রান সংগ্রাহক ও তিনি, টেস্টে ভারতীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ ডাবল সেঞ্চুরির মালিক ও তিনি। এছাড়াও একাধিকবার তিনি ওয়ানডে, টেস্ট ও টি২০ তে ব্যাটিং র্যাংকিং এ ১ম স্থানে ছিলেন। বিরাট কোহলি একাধিক রেকর্ড ভেঙেছেন এবং শচীনের রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছেছেন।
বিরাট কোহলি চাপ সামলানোর ক্ষমতা: চেজ মাস্টার খ্যাত কোহলি লক্ষ্য তাড়া করার ক্ষেত্রে তার জুড়ি মেলা ভার। দলের কঠিন পরিস্থিতিতে ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা তাকে “চেজ মাস্টার” উপাধি দিয়েছে। কোহলি ওয়ানডেতে রান তাড়া করে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি করেছে (২৮টি)।
বিরাট কোহলি ফিটনেস ও কর্মনিষ্ঠা: তার সর্বোচ্চ ফিটনেস স্তর এবং খেলার প্রতি নিষ্ঠা তাকে দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষ ফর্মে থাকতে সাহায্য করেছে। কোহলি ফিটনেস লেভেল এতটাই বেশি যে একটা আইডিয়া করে অনুমানের ভিত্তিতে বলা যায় যে সে ১০০ রান করলে অনন্ত ৫০ থেকে ৬০ রান দৌড়ে নেয় যা তরুণদের কাছে অনুকরণীয়।
বিরাট কোহলি আধুনিক ব্যাটিং শৈলী: তার আক্রমণাত্মক টেকনিক্যালি নিখুঁত ব্যাটিং বিশেষ করে স্ট্রেইট ড্রাইভ, অন-সাইড শট, কভার ড্রাইভ এবং কাট ও স্কয়ার কাট শটে পারদর্শী। তার কাভার ড্রাইভ খেলা দেখার জন্য এখনো লক্ষ দর্শক মাঠে যায়।
বিরাট কোহলি নেতৃত্ব: বিরাট কোহলি অধিনায়ক হিসেবে ভারতকে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম টেস্ট সিরিজ জেতানোসহ একাধিক জয় এনে দিয়েছেন এবং মাঠে নেতৃত্ব দিয়ে উদাহরণ তৈরি করেছেন।
অধিনায়ক হিসেবে বিরাট কোহলির ভারতীয় জাতীয় দলে: অধিনায়ক হিসেবে প্রধান অর্জনগুলো হলো টেস্টে ভারতের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক (সর্বোচ্চ ৪০ জয়), টেস্ট র্যাংকিং ১ম স্থানে থাকা, ইংল্যান্ডে ও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজ জয়, এবং ফিটনেসের মানদণ্ড পরিবর্তন করা। পাশাপাশি ওডিআই ও টি২০ তে তিনি সবচেয়ে বেশি রান করা অধিনায়ক এবং টি২০ তে দ্রুততম ১০০০ রান করার রেকর্ড গড়েছেন তিনি, যদিও কোনো বড় আইসিসি ট্রফি তার দলকে জেতাতে পারেননি, তবে তার দক্ষ নেতৃত্বে ভারত অনেক দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জিতেছে।
আমাদের স্বল্প আলোচনায় বিরাট কোহলির কথা বলে শেষ করা যাবে না, বিরাট কোহলি শুধু একজন খেলোয়াড় নন, তিনি কোটি কোটি মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা আধুনি ক্রিকেটে তরুন প্রজন্মের আনেক খেলোয়ার বিরাট কোহলির খেলা দেখে ক্রিকেট খেলা শিখতে চাই এবং বিরাট কোহলির ক্রিকেটের ইতিহাসে একজন কিংবদন্তি হিসেবেই পরিচিত। তবে বিরাট কোহলি প্রিয় দর্শক দের জন্য আনন্দের খবর হল কোহলি টেস্ট এবং টি২০ থেকে অবসর নিলেও এখনো ওডিআই ম্যাচ খেলছে এবং ২০২৭ সালের ওডিআই বিশ্বকাপ খেলবেন।
আরো পড়ুন: বিরাট কোহলির পরিসংখ্যান সব ফরম্যাটে
যে কারণে শচীন টেন্ডুলকার কিংবদন্তি
শচীন টেন্ডুলকারের রেকর্ড ও অর্জন: বিশ্বের প্রথম ও একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে শচীন টেন্ডুলকার ১০০টি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি করেছে, টেস্ট ও ওয়ানডেতে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানও তার দখলে রয়েছে, ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম ব্যাট ম্যান হিসাবে ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরি ও তার ঝুলিতে রয়েছে।
শচীন টেন্ডুলকারের আন্তর্জাতিক প্রভাব:মাত্র ১৬ বছর বয়সে জাতীয় দলে অভিষেক হয় শচীন টেন্ডুলকারের যার ফলে বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তের অনুপ্রেরণা হয়েছেন তিনি। তার খেলোয়ারী জীবনের খেলা ও আচরণ কোটি মানুষকে প্রভাবিত করেছে এবং তার অবসরের পরও এখনো কোটি কোটি মানুসকে প্রভাবিত করে।
শচীন টেন্ডুলকারের বিশ্বকাপ জয়: ২০১১ সালে শচীনের শেষ বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম প্রধান সদস্য ছিলেন শচীন টেন্ডুলকার, যা তার ক্যারিয়ারের একটি অন্যতম বড় অর্জন।
শচীন টেন্ডুলকারের সম্মান ও পুরস্কার: খেলোয়ারী জীবনে শচীন ওয়ানডেতে রেকর্ড ৬২ বার ‘ম্যান অফ দ্য ম্যাচ’ এবং ১৫ বার ‘ম্যান অফ দ্য সিরিজ’ নির্বচিত হয়েছেন, যা এই ফরম্যাটে ব্যক্তি গত সর্বোচ্চ, আর টেস্টে তিনি ১৪ বার ‘ম্যান অফ দ্য ম্যাচ’ এবং ৫ বার ‘ম্যান অফ দ্য সিরিজ’ নির্বচিত হয়েছেন। সব ফরম্যাট মিলিয়ে তাঁর মোট ‘ম্যান অফ দ্য ম্যাচের’ পুরস্কার ৭৬টি এবং ‘ম্যান অফ দ্য সিরিজের’ পুরস্কার ২০টি। এছাড়াও তিনি ২০০৩ বিশ্বকাপে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন। খেলোয়ারী জীবনের বাইরে শচীন টেন্ডুলকারের ‘ভারত রত্ন’ (সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান), ‘পদ্ম বিভূষণ’, ‘রাজীব গান্ধী খেল রত্ন’ সহ আরো অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
শচীন টেন্ডুলকারের ক্রিকেটের প্রতি নিষ্ঠা: শচীনের প্যাশন, ডেডিকেশন এবং মাঠের মধ্যেও মাঠের বাইরের বিনয়ী আচরণ তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে এবং ‘লেজেন্ড’ উপাধি এনে দিয়েছে এই ভারতীয় কিংবদন্তিকে।
সংক্ষেপে শচীন টেন্ডুলকারের কথা বলে শেষ করা যাবে না, শচীন টেন্ডুলকার শুধু একজন খেলোয়াড় নন, তিনি একটি যুগের প্রতীক, যিনি তার ব্যতিক্রমী প্রতিভা ও ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে ক্রিকেটকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তিনি ভারতীয় উপমহাদেশে বা সারা বিশ্বের আদর্শ ও গর্ব। বর্তমানে শচীন তার খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর নিয়েছেন। অবসর নেওয়ার পর শচীন টেন্ডুলকার বিভিন্ন সামাজিক কাজ, ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরশিপ, নিজের ব্যবসা এবং ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সময় কাটান। তিনি খেলাধুলা, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার প্রসারেও কাজ করেন, এবং তাঁর শচীন টেন্ডুলকার ফাউন্ডেশন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সাহায্য করে।
শচীন টেন্ডুলকার মোট সেঞ্চুরি কয়টি?
শচীন টেন্ডুলকার মোট সেঞ্চুরি সংখ্যা ১০০টি।
বিরাট কোহলির মোট সেঞ্চুরি কয়টি?
বিরাট কোহলির মোট সেঞ্চুরি সংখ্যা ৮৪টি সেঞ্চুরি। টেস্টে ৩০টি, ওডিআই তে ৫৩টি, টি২০ তে ১টি।
শচীন টেন্ডুলকার মোট ফিফটি কয়টি?
শচীন টেন্ডুলকার মোট ফিফটি কয়টি ১৬৪টি। টেস্টে ৬৮টি, ওডিআই তে ৯৬টি, টি২০ তে ০০টি।
বিরাট কোহলির মোট ফিফটি কয়টি?
বিরাট কোহলির মোট ফিফটি ১৪৫ কয়টি। টেস্টে ৩১টি, ওডিআই তে ৭৬টি, টি২০ তে ৩৮টি।
শচীন টেন্ডুলকার মোট কতবার ৯৯ রানের আউট হয়েছে?
শচীন টেন্ডুলকার মোট ৩ বার ৯৯ রানের আউট হয়েছে।



