বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম ১০০ তম টেস্টের মাইলফলক স্পর্শ করা একমাত্র কিংবদন্তী ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মুশফিকুর রহিম বাংলাদেশের হয়ে ক্যারিয়ারের ১০০তম টেস্ট খেলায় অংশ নিয়ে নিজের নাম ইতিহাসের পাতায় লিখিয়ে দেন এবং সেই ম্যাচে সেঞ্চুরি করে দিনটিকে আরও স্মরণীয় করে তোলেন। গোটা বাংলাদেশের মানুষের কাছে মিস্টার ডিপেন্ডেবল নামেও তিনি পরিচিত।আজকের খেলা ডেস্ক এর এই নিবন্ধে কিংবদন্তী ক্রিকেটার মিস্টার ডিপেন্ডেবল বা মুশফিকুর রহিম ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান জানাবো আপনাদের।

মুশফিকুর রহিম এর ব্যক্তিগত জীবন
মুশফিকুর রহিমের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরু
২০০৫ সালে ইংল্যান্ড সফরে লর্ডসে টেস্ট অভিষেক হয় মুশফিকুর রহিমের। তখন তার বয়স ছিলো মাত্র ১৮ বছর ১৭ দিন। লর্ডসে মাঠে সচিন টেন্ডুলকরের পর মুশফিকুর রহিমে ছিলো দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়। ক্যারিয়ারের প্রথমদিকে ব্যাটসম্যান হিসেবে খেললেও পরে উইকেটকিপারের দায়িত্ব নেন তিনি। ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে ওডিআই অভিষেক হয় মুশফিকুর রহিমের, যেখানে তিনি তার প্রথম অর্ধশতক তুলে নেন।
মুশফিকুর রহিমের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের উত্থান
২০০৭-২০১০ সালে মুশফিকুর রহিমের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের উত্থান ঘটে। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে প্রথম পছন্দের কিপার হন মুশফিক। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টে মোহাম্মদ আশরাফুলের সাথে ১৯১ রানের পার্টনারশিপ করেন তিনি। ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে ভাইস-ক্যাপ্টেন হিসেবে ৯৮ রান করে দলকে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। ২০১০ সালে ভারতের বিপক্ষে তার প্রথম টেস্ট শতক (১০১ রান) তুলে নেন।
২০১১-২০১৮ সালে মুশফিকুর রহিম বাংলাদেশ জাতীয় দলে অধিনায়কত্ব করেন। ২০১১ সালে অধিনায়ক ওয়ার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি ২০ সিরিজ জয় করেন। ২০১২ সালের এশিয়া কাপে দলকে ফাইনালে নেন। ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট ডাবল সেঞ্চুরি (২০০ রান) করেন। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে শক্তিশালী দল ইংল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নেন। অধিনায়ক হিসেবে টেস্ট, ওডিআই, টি ২০ সব ফর্মেটে নেতৃত্ব দেন মুশফিকুর রহিম।
মুশফিকুর রহিমের জাতীয় দলের হয়ে টেস্ট, ওডিআই, এবং টি ২০ পরিসংখ্যান
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান মুশফিকুর রহিমের আওতায় সব ফর্মেটে মিলিয়ে। টেস্ট, ওডিআই, ও টি ২০ তিন ফর্মেটেই তার ব্যাটিং গড় অসাধারণ। মুশফিকুর রহিমের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে একাধিক হাফ সেঞ্চুরি, সেঞ্চুরি এবং ডাবল সেঞ্চুরি রয়েছে। ১১,০০০ রান এবং ৪০০ এর অধিক ডিসমিসাল করেছেন উইকেটকিপার হিসেবে। আইসিসি ওডিআই টিম অফ দ্য ইয়ার ২০২১-এ। বাংলাদেশের একমাত্র খেলোয়াড় যিনি ১৫০টি আন্তর্জাতিক জয় অর্জন করেন।
২০১৯ সালের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১০২* করেন মুশফিক। ২০২১ সালে শ্রীলংকার বিপক্ষে ১২৫ রান করে সিরিজ জয়ে ভূমিকা রাখেন। ২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে ‘অবস্ট্রাকটিং দ্য ফিল্ড’ আউট হন যেটা ৭২ বছরের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম। মুশফিকুর রহিমের জাতীয় দলের হয়ে টেস্ট, ওডিআই, ও টি ২০ পরিসংখ্যান নিচে ছক আকারে তুলে ধরা হলোঃ
জাতীয় দলের ব্যাটিং পরিসংখ্যান
| ফর্মেট | ম্যাচ | ইনিংস | রান | গড় | স্ট্রাইক রেট | সর্বোচ্চ স্কোর | হাফ সেঞ্চুরি | সেঞ্চুরি | ডাবল সেঞ্চুরি |
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| টেস্ট | ১০০ | ১৮৪ | ৬৫১০ | ৩৮.৭৫ | ৪৮.৫২ | ২১৯ | ২৮ | ১৩ | ২ |
| ওডিআই | ২৭৪ | ১৫৬ | ৭৭৯৫ | ৩৬.৪২ | ৭৯.৭০ | ১৪৪ | ৪৯ | ৯ | ০ |
| টি ২০ | ১০২ | ৯৩ | ১৫০০ | ১৯.৪৮ | ১১৫.০৩ | ৭২ | ৬ | ০ | ০ |
| মোট | ৪৭৬ | ৫৩৩ | ১৫,৮০৫ | ৮৩ | ২২ | ২ |
জাতীয় দলের উইকেটকিপিং পরিসংখ্যান
| ফর্মেট | ম্যাচ (কিপার হিসেবে) | ডিসমিসাল | ক্যাচ | স্টাম্পিং |
|---|---|---|---|---|
| টেস্ট | ১০০ | ১২৮ | ১১৩ | ১৫ |
| ওডিআই | ২৭৪ | ২৯৯ | ২৪৩ | ৫৬ |
| টি ২০ | ১০২ | ৭২ | ৪২ | ৩০ |
মুশফিকুর রহিমের বিপিএল পরিসংখ্যান
মুশফিকুর রহিম বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বা বিপিএল -এ এখন পর্যন্ত ১৫৩ টি ম্যাচ খেলেছেন। বিপিএল ২০২৪, ২০২৫ এবং ২০২৬ আসরে শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব গড়েছেন তিনি। যা তার বিপিএল ক্যারিয়ারের সেরা অর্জন। ২০২৩ সালে মুসফিকুর রহিম বিপিএলে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ১০০ ম্যাচ পূর্ণ করেছেন। তিনি বিপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন। নিচে মুশফিকুর রহিমের বিপিএল পরিসংখ্যান ছক আকারে দেওয়া হলোঃ
বিপিএল এর ব্যাটিং পরিসংখ্যান
| বিবরণ | পরিসংখ্যান |
|---|---|
| মোট বিপিএল ম্যাচ খেলেছেন | ১৫৩ |
| ইনিংস | ১৪১ |
| রান | ৩,৬৫৮ |
| গড় | ৩০.৪৮ |
| স্ট্রাইক রেট | ১২৫.৬৫ |
| সর্বোচ্চ রান | ৯৮* |
| শতক | ০ |
| অর্ধশতক | ২২ |
| চার | ২৮৭ |
| ছয় | ৯৮ |
বিপিএল এর উইকেটকিপিং পরিসংখ্যান
| বিবরণ | পরিসংখ্যান |
|---|---|
| কিপার হিসেবে মোট ম্যাচ খেলেছেন | ১৫১ |
| মোট ডিসমিসাল | ১৩৪ |
| ক্যাচ | ১০৪ |
| স্টাম্পিং | ৩০ |
মুশফিকুর রহিমের বর্তমান ক্রিকেট ক্যারিয়ার
মুশফিকুর রহিম ২০২৫ সালে ওডিআই থেকে অবসর নেন, এখন শুধু টেস্ট ক্রিকেট খেলেন তিনি। ইতিমধ্যে মুশফিক বিপিএলে বিভিন্ন দলের হয়ে খেলেছেন, যেমন সিলেট রয়্যালস, খুলনা টাইগার্স, ফরচুন বরিশাল এবং রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। যেখানে মুশফিক ফরচুন বরিশাল এর হয়ে দুই বার এবং রাজশাহী ওয়ারিয়র্স এর হয়ে একবার বিপিএল জয়ে অবদান রেখেছেন। তার ক্যারিয়ার বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নয়নের প্রতীক, যেখানে তিনি নেতৃত্ব, ধারাবাহিকতা এবং রেকর্ডের মাধ্যমে অবদান রেখেছেন। আমরা মুশফিকুর রহিম ও তার পরিবারের মঙ্গল কামনা করি।
মতামত
মুশফিকুর রহিম তার এই দীর্ঘ ক্রিকেট ক্যারিয়ারে বাংলাদেশ জাতীয় দল ও ঘরোয়া লীগের দলকে একাধিকবার সাফল্য এনে দিয়েছে। আমরা ক্রিকেট ভক্ত হিসেবে আশা করবো মুশফিকুর রহিম আরো লম্বা সময় ধরে আমাদের ক্রিকেট খেলা উপহার দিয়ে যাবে। মুশফিকুর রহিম সম্পর্কে আপনার প্রয়োজনীয় মতামত খেলা ডেস্ক -কে কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন।
এছাড়া অন্যান্য সকল কিংবদন্তী ক্রিকেটারদের পরিসংখ্যান জানতে খেলা ডেস্ক এর ক্রিকেট পাতায় দেখুন।
মুশফিকুর রহিমের মোট রান কতো?
মুশফিকুর রহিম সব ফর্মেটে মোট আন্তর্জাতিক রান ১৫,৮০৫ করেছেন।
মুশফিকুর রহিমের সর্বোচ্চ রান কতো?
মুশফিকুর রহিম সর্বোচ্চ অপরাজিত ২১৯ রান করেন জিম্বাবুয়ে বিপক্ষে টেস্ট খেলায় মিরপুরে।
মুশফিকুর রহিমের অভিষেক হয় কত সালে?
২০০৫ সালে ইংল্যান্ড সফরে লর্ডসে টেস্ট অভিষেক হয় মুশফিকুর রহিমের।
মুশফিকুর রহিমের হাফ সেঞ্চুরি কয়টি?
মুশফিকুর রহিমের হাফ সেঞ্চুরি ৮৩ টি।
মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরি কয়টি?
মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরি ২২ টি।
মুশফিকুর রহিমের ডাবল সেঞ্চুরি কয়টি?
মুশফিকুর রহিমের ডাবল সেঞ্চুরি ৩ টি।
মুশফিকুর রহিম বিপিএল জিতেছে কয়বার?
মুশফিকুর রহিম বিপিএল জিতেছে তিন বার, ফরচুন বরিশাল এর হয়ে দুই বার এবং রাজশাহী ওয়ারিয়র্স এর হয়ে একবার।
মুশফিকুর রহিম বিপিএলে কোন দলে খেলে?
মুশফিকুর রহিম বিপিএল ২০২৬ আসরে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স এর হয়ে খেলেছেন।
মুশফিকুর রহিমের বাড়ি কোথায়?
মুশফিকুর রহিমের জন্মস্থান এবং পৈতৃক বাড়ি বাংলাদেশের বগুড়া জেলায়।



